অষ্টমীর পর নবমী 2025: দুর্গাপূজার শেষ মহোৎসবের সূচনা আজ

অষ্টমীর পর নবমী 2025: দুর্গাপূজার শেষ মহোৎসবের সূচনা আজ

Spread the love

অষ্টমীর পর নবমী 2025: দুর্গাপূজার শেষ মহোৎসবের সূচনা আজ

অষ্টমীর পর নবমী 2025: দুর্গাপূজার শেষ মহোৎসবের সূচনা আজ

দুর্গাপূজা বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। প্রতিটি দিনের আলাদা মাহাত্ম্য, আলাদা আনন্দ, আর আলাদা আবহ। অষ্টমী মানেই আনন্দের চূড়ান্ত রূপ—সন্ধিপুজো, কুমারী পূজা, অঞ্জলি, ঢাকের তালে তালে মন্ত্রোচ্চারণ। কিন্তু অষ্টমীর পরেই শুরু হয় নবমী। অনেকের কাছে নবমী মানে শেষ দিনের পূজার সূচনা। তাই আবেগ আরও গভীর হয়। আজ আমরা জানব, অষ্টমীর পর নবমীর দিনকে কেন বলা হয় শেষ মহোৎসবের শুরু, কীভাবে কাটে এই দিনটি, আর কী কী বিশেষ আয়োজন হয় সর্বত্র।

অষ্টমীর আবেগ শেষ, নবমীর আহ্বান শুরু

অষ্টমীর দিন সকাল থেকেই ভিড় জমে প্রতিটি পূজামণ্ডপে। ছোট থেকে বড় সকলে মিলে অঞ্জলি দেয়, মহাপ্রসাদ খায়, কেউ আবার প্যান্ডেল হপিং করে দিনটা উপভোগ করে। কিন্তু রাত যত গড়ায়, মন ভারী হতে শুরু করে। কারণ সবার মনে একটা চাপা দুঃখ কাজ করে—দেবী বিদায় নেওয়ার সময় আসছে।

তবুও নবমী আবার নতুন করে উৎসবের রঙ নিয়ে আসে। ভক্তরা ভাবে—“শেষ দিনটুকু মন ভরে উপভোগ করতে হবে।” তাই নবমীতে প্যান্ডেলে ভিড় হয় দ্বিগুণ।

নবমীর বিশেষ তাৎপর্য

নবমীকে বলা হয় দুর্গাপূজার মূল সমাপ্তির দিন। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এই দিনে মা দুর্গা মহিষাসুরের সঙ্গে শেষ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। তাই নবমীর পূজা মূলত “মহা আরাধনা” হিসেবে ধরা হয়।

  • নবমীতে বিশেষ মহাপূজা হয়।

  • ভক্তরা দীর্ঘক্ষণ ধরে দেবীর আরাধনা করে।

  • সন্ধ্যায় হয় মহা আরতি—যেখানে ঢাক, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি একসাথে ওঠে।

  • অনেক জায়গায় হয় মহাভোগ—যেখানে হাজারো মানুষ একসাথে প্রসাদ খেতে বসে।

নবমীর আনন্দ তাই শুধু পূজার্চনাতেই নয়, মানুষের একত্রিত হওয়া আর ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেও।

নবমীর সকাল

নবমীর সকাল শুরু হয় মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে। পূজারি পণ্ডিতরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন—“শেষ দিনে আমাদের আশীর্বাদ দাও।” ভোরবেলায় ঢাকের আওয়াজ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মণ্ডপে তখন মেয়েরা শাঁখ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে পরিবেশ মাতিয়ে তোলে।

অনেক পরিবারেই নবমীর দিনে নবমী অঞ্জলি দেওয়া হয়। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা ফুল, বেলপাতা হাতে নিয়ে অঞ্জলি দেয়।

নবমীর দুপুর – ভোগের আনন্দ

অষ্টমীর মতোই নবমীতেও ভোগের বিশেষ আয়োজন থাকে। মেনুতে থাকে—খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুন ভাজা, টমেটোর চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। ছোট থেকে বড় সবাই ভোগ খেতে যায়। অনেক সময় স্কুল, ক্লাব বা সমাজের উদ্যোগে নবমী মহাভোগের আয়োজন করা হয়। হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগ খায়।

এই ভোগ শুধু খাবার নয়, এক ধরনের সামাজিক মিলনও বটে। অপরিচিত মানুষ এক থালায় বসে খায়, গল্প করে—এ যেন সম্পূর্ণ এক অন্য আনন্দ।

সন্ধ্যায় মহা আরতি

নবমীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান হলো সন্ধ্যার মহা আরতি। ঢাকের বাদ্যি, আলোর খেলা, শঙ্খধ্বনি—সব মিলিয়ে মহোৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। মণ্ডপভর্তি ভিড় তখন হাততালি দিয়ে দেবীকে আহ্বান জানায়।

অনেকে এই সময়ে ফটো তোলে, ভিডিও করে, আবার কেউ কেউ একেবারে ধ্যানমগ্ন হয়ে দেবীর দিকে তাকিয়ে থাকে। মহা আরতির সময় অনেকের চোখ ভিজে ওঠে—কারণ তখনই মনে হয়, কালই হয়তো বিদায় নিতে হবে দেবীকে।

নবমীর রাত – শেষ আনন্দের মেলা

নবমীর রাত মানেই শেষ মুহূর্তের আনন্দ। বন্ধু-বান্ধব, পরিবার নিয়ে তখন মানুষ বেরিয়ে পড়ে প্যান্ডেল হপিংয়ে। আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলার দোকান—সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশ হয় জমজমাট।

ছোটরা খেলনা, বাঁশি কিনে আনন্দ করে। বড়রা ফুচকা, রোল, চাউমিন, মোমো—এই সব স্টল ঘুরে খাওয়া-দাওয়া করে। আসলে নবমীর রাত হলো মুক্ত আনন্দের সময়।

নবমীর পূজা ও আচার

শাস্ত্র মতে, নবমীর পূজা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে করা হয়। এই দিনেই দেবী মহিষাসুরের বধ করেন। তাই অনেক জায়গায় প্রতীকীভাবে মহিষাসুর বধের আচার পালিত হয়।

এছাড়া, নবমীতে দেবীর কাছে বিশেষ চণ্ডীপাঠ হয়। এই পাঠের মাধ্যমে ভক্তরা প্রার্থনা করেন—“আমাদের জীবন থেকে অশুভ শক্তি দূর হোক।”

নবমী ও বিদায়ের সুর

নবমীর আনন্দ যত গভীর, ততই মন খারাপের আবহ তৈরি হয়। কারণ এর পরের দিনই বিজয়া দশমী। সেই দিন দেবী মর্ত্যলোক ত্যাগ করে কৈলাসে ফিরে যান। তাই নবমীকে বলা যায়—“বিদায়ের প্রাক্কাল।”

ভক্তরা যতটা সম্ভব আনন্দ উপভোগ করতে চায়। যেন শেষ মুহূর্তগুলো মনে গেঁথে থাকে সারা বছরের জন্য।

আজকের দিনে নবমীর গুরুত্ব

আগে নবমীর আচার-অনুষ্ঠান ঘরে ঘরে পালিত হলেও এখন বড় আকারে ক্লাব, সমাজ বা মন্দিরে হয়। প্রযুক্তির কারণে এখন অনেকে অনলাইনে লাইভ দেখে পূজা। বিদেশে থাকা বাঙালিরাও মোবাইল বা টিভির মাধ্যমে এই দিনটিকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত রাখে।

তবুও আবেগের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আজও নবমীর দিন বাঙালির হৃদয়ে আলাদা উত্তেজনা, আলাদা উল্লাস।

FAQ

Q1. নবমী পূজা কবে পালিত হয়?
👉 অষ্টমীর পরদিন, দুর্গাপূজার নবম দিনে নবমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

Q2. নবমী পূজার প্রধান বিশেষত্ব কী?
👉 মহা আরতি, মহাভোগ এবং দেবীর মহিষাসুর বধের প্রতীকী আচারই নবমীর প্রধান বিশেষত্ব।

Q3. নবমীতে কী ধরনের ভোগ দেওয়া হয়?
👉 খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুন ভাজা, টমেটো চাটনি, পায়েস ইত্যাদি ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

Q4. নবমীকে কেন শেষ মহোৎসব বলা হয়?
👉 কারণ এর পরদিন বিজয়া দশমীতে দেবী বিদায় নেন, তাই নবমীকে দুর্গাপূজার শেষ মহোৎসব হিসেবে ধরা হয়।

Q5. নবমীর রাতে কী ধরনের অনুষ্ঠান হয়?
👉 প্যান্ডেল হপিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলার আয়োজন ও ভোগ বিতরণ—সব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়।

উপসংহার

অষ্টমীর পর নবমী হলো দুর্গাপূজার শেষ মহোৎসবের সূচনা। ভক্তরা জানে, দেবীকে বিদায় জানাতে হবে শিগগিরই। তবুও নবমীর দিনটা যেন শেষবারের মতো আনন্দে ভরিয়ে তোলার দিন।

অঞ্জলি, ভোগ, মহা আরতি, প্যান্ডেল হপিং—সব মিলিয়ে নবমী হয়ে ওঠে এক অমর স্মৃতি। আর তাই আজকের দিনটি শুধু পূজা নয়, বাঙালির মনের গভীরে আনন্দ আর আবেগের এক অমূল্য উৎসব।

আরও পড়ুন

👉 কুমারী পূজা থেকে মহাভোগ: নবমীর বিশেষ আয়োজন কোথায় কোথায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *