বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডব: ৪২ বলে ১৪৪! দোহায় এশিয়া কাপে ভারতীয় যুব দলের দুর্দান্ত জয়
যুব এশিয়া কাপের মঞ্চে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই অসাধারণ ইনিংস খেলল বৈভব সূর্যবংশী। দোহায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই সে মাত্র ৪২ বলে ১৪৪ রান করে একের পর এক নজির গড়ে ফেলেছে। বৈভবের ব্যাটিংয়ে ছিল ১৫টি ছক্কা এবং ১১টি চার, যা তাকে এই টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই সবার আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে।

এ দিন ভারত আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২৯৭ রান করে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বৈভবের ব্যাটিং। ইনিংসের প্রথম দিকেই স্পষ্ট ছিল, নিজের দিনে সে যে কোনও বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ঝড় তুলতে পারে। মাত্র ১৭ বলে পঞ্চাশ এবং ৩২ বলে শতরান করে বৈভব ম্যাচকে একহাতেই ভারতের দিকে টেনে আনেন।
আরও পড়ুন :
Gopalnagar চাঞ্চল্যকর খবর : রান্নাঘরে পুঁতে রাখা প্রেমিকার দেহ ! দিদি-ভাইকে আজীবন কারাদণ্ড
Gold Price Today Hits $3,815 per Ounce! Latest Spot Rates & Futures Update You Must See
দ্বিতীয় উইকেটে নমন ধীরের সঙ্গে বৈভব যোগ করেন ১৬২ রান। ১৩তম ওভারে ফারাজুদ্দিনের বলেই ক্যাচ আউট হয়ে ফিরে যায় সে। কিন্তু তার আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের দখলে চলে আসে। বৈভব যখন ক্রিজে ছিল, তখন আমিরশাহির কোনও বোলারকেই সে রেয়াত করেনি।
প্রথমে রোহিদ খানকে চার মেরে শুরু করে। এরপর তৃতীয় ওভারে আয়ান খানকে একটি চার এবং দু’টি ছক্কা মারে। পঞ্চম ওভারে জাওয়াদুল্লাকে তিনটি চার ও একটি ছয় মারার পর সপ্তম ওভারে ফারাজুদ্দিনের উপর চড়াও হয় বৈভব। সেই ওভার থেকে আসে ২৭ রান— তিনটি ছয় ও দু’টি চার।
১১তম ওভারে হর্ষিত কৌশিকের বিরুদ্ধে চারটি ছয়সহ অসাধারণ আগ্রাসন দেখায় বৈভব। মোট ৪২ বলের ইনিংসে সে ২৬টি বাউন্ডারি মেরেছে, অর্থাৎ ১৪৪ রানের মধ্যে ১৩৪ রানই এসেছে চার-ছক্কা থেকে।

টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম শতরানের তালিকায় এখন সে ভারতীয়দের মধ্যে চতুর্থ। এর আগে উর্বিল পটেল ২৮ বলে শতরান করে শীর্ষে রয়েছে। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকাতেও বৈভব রয়েছে চতুর্থ স্থানে, যেখানে তিলক বর্মা আছেন শীর্ষে তার ১৫১ রানের ইনিংস নিয়ে।
জবাবে খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে মাত্র ১৪৯ রান তুলতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ভারতের হয়ে গুরজপনীত সিং নেন ৩ উইকেট। ফলে ভারত ম্যাচ জেতে ১৪৮ রানে। আগামী রবিবার ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।
ম্যাচ শেষে বৈভব জানায়, “বাউন্ডারি ছোট ছিল, তাই সুযোগ কাজে লাগিয়েছি। একটা ক্যাচও পড়েছিল, যা আমাকে আরও সতর্ক হয়ে খেলতে সাহায্য করেছে।” এত কম বয়সে খ্যাতি পাওয়া নিয়ে সে বলে, “আমার বাবা আমাকে সব সময় মাটিতে পা রাখতে সাহায্য করেন। মনঃসংযোগ যেন নড়চড় না হয়, সেই বিষয়েও তিনি খেয়াল রাখেন।”
গত দু’ বছরে জীবন বদলে গেলেও এখন শুধু নিজের খেলায় মন দিতে চায় বৈভব। দোহায় তার এই ইনিংস ভারতের যুব ক্রিকেটে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
