এসআইআরে বদল চেয়ে মামলার প্রস্তুতি কংগ্রেসের
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের সরগরম পরিস্থিতি। এবার আলোচনার কেন্দ্রে এসআইআর বা স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট। জানা গিয়েছে, এই রিপোর্ট নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কংগ্রেসের দাবি, রিপোর্টে কিছু তথ্য ‘একপাক্ষিক’ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তদন্তে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ছাপ স্পষ্ট। ফলে এসআইআরের বদল চেয়ে দল আইনি পথে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দিল্লির সঙ্গে জোর আলোচনা
গত কয়েক দিনে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের আইন বিভাগের শীর্ষ নেতাদের বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, দলের আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর একটি নির্দিষ্ট আইনি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন—
“আমরা চাই তদন্ত নিরপেক্ষ হোক। এসআইআরে যেভাবে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে, তা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
সূত্রের খবর, শুভঙ্করবাবু দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করেছেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের আইনি সেলের কয়েকজন সদস্যও।
আইনি পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি
পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর বদলের দাবিতে কংগ্রেসের নড়াচড়া শুরু মামলার প্রস্তুতি, দিল্লির সঙ্গে জোর আলোচনা
দলের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে হাইকোর্টে একটি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (PIL) দাখিলের পরিকল্পনা চলছে।
এই মামলার মূল উদ্দেশ্য হবে, এসআইআরের রিপোর্ট পুনরায় মূল্যায়নের জন্য আদালতের নির্দেশ চাওয়া।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার খসড়া প্রায় প্রস্তুত। শুধু দিল্লির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। এক কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন—
“আমরা চাই আদালত এই বিষয়ে নজর দিক। রিপোর্টটি সংশোধন না হলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কংগ্রেসের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন নির্দেশ করছে। এতদিন প্রদেশ কংগ্রেস প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা মুখে করলেও, এবার আইনি পথে লড়াইয়ের সিদ্ধান্তে তারা অনেক বেশি দৃঢ় অবস্থানে।
এছাড়াও দলের তরফে বলা হয়েছে, এসআইআর নিয়ে এই আন্দোলন শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, এটি সাধারণ মানুষের ন্যায়ের প্রশ্নও।
রাজ্যের অন্য বিরোধী দলগুলিও এই ঘটনাকে কৌতূহলভরে পর্যবেক্ষণ করছে।
দলীয় প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পরিকল্পনা
প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হবে, যেখানে পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সেখানে এসআইআরের বিতর্কিত দিকগুলি তুলে ধরা হবে এবং কীভাবে কংগ্রেস আইনগত পথে লড়বে তা ঘোষণা করা হবে।
শুভঙ্করবাবু বলেন,
“আমরা আদালতের উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখি। এই লড়াই ন্যায়ের জন্য, কোনও দলের বিরুদ্ধে নয়।”
উপসংহার
বর্তমানে এসআইআরের বদল চেয়ে কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
দলটির দাবি, তারা জনগণের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিশোধের জন্য নয়। তবে বিরোধীরা বলছে, এটি আসলে প্রচারের কৌশল।
এখন নজর থাকবে আদালতের দিকে— কংগ্রেসের এই মামলার ফলাফল কী হয়, তা-ই নির্ধারণ করবে পরবর্তী রাজনৈতিক দিকনির্দেশ।
আরও পড়ুন :
এপিক কার্ডে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক না থাকলে বিপদ! অনলাইনে ভোটার ফর্ম পূরণ বন্ধ করে দিল কমিশন
কলকাতায় এক ধাক্কায় নামবে পারদ ৪ ডিগ্রি! শীতের আগেই ঠান্ডার আমেজ, উত্তরবঙ্গে কুয়াশার সতর্কতা জারি

[…] […]
[…] […]