আজ অষ্টমীতে মা দুর্গার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য করণীয়

আজ অষ্টমীতে মা দুর্গার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য করণীয়

Spread the love

আজ অষ্টমীতে মা দুর্গার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য করণীয়

আজ অষ্টমীতে মা দুর্গার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য করণীয়

ভূমিকা

শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই আনন্দ, ভক্তি আর শুভশক্তির আবাহন। প্রতি বছর শরৎকালে মা দুর্গা আসেন তাঁর সন্তানদের ঘরে। নয়দিনব্যাপী এই মহাপর্বে প্রতিটি দিনেই দেবীর বিশেষ রূপের পূজা হয়। এর মধ্যে অষ্টমী বা মহাঅষ্টমীকে সবচেয়ে শুভ দিন হিসেবে ধরা হয়। এই দিনেই মূলত দেবী মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পূজিতা হন। তাই আজকের দিনে ভক্তরা চান মায়ের আশীর্বাদ, যাতে জীবন হয় শান্তিময়, সুখসমৃদ্ধ আর সুস্থতায় ভরা।

কিন্তু প্রশ্ন হল—আজ অষ্টমীতে মা দুর্গার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য কী কী করণীয়? চল, সহজ ভাষায় জেনে নিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায় ও আচার।

১. ভোরে স্নান ও পবিত্রতা রক্ষা

আজ অষ্টমীতে মা দুর্গার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য করণীয়

অষ্টমীর সকালে ভোরে উঠে প্রথমেই স্নান করতে হবে। পরিষ্কার পোশাক পরে মনের মধ্যে মা দুর্গার নাম জপ করা উচিত। বিশ্বাস করা হয়, ভোরের পবিত্র সময়ে শরীর-মনকে বিশুদ্ধ করলে দেবীর শক্তি সহজেই ভক্তের মধ্যে প্রবেশ করে।

  • সাদা বা লাল কাপড় পরে পূজার্চনা করলে শুভ ফল পাওয়া যায়।

  • বাড়ির পূজাস্থান পরিষ্কার করে ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে মন্ত্রপাঠ শুরু করতে হয়।

২. অষ্টমী পূজার বিশেষ মন্ত্রপাঠ

অষ্টমীর দিনে ভক্তরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন। মনে রাখবে, শুধু মন্ত্র উচ্চারণ নয়, আন্তরিক ভক্তিই আসল শক্তি। যদি মন্ত্র না জানা থাকে, তবে অন্তত “জয় মা দুর্গা” বা “দুগ্গা দুর্গ্গা” জপ করলে মায়ের কৃপা লাভ হয়।

৩. অঞ্জলি প্রদান

অষ্টমীর অঞ্জলি দুর্গোৎসবের মূল আকর্ষণ। পূজার সময় শাঁখধ্বনি, ঢাকের শব্দ আর ভক্তদের মিলিত আহ্বান—সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়।

  • অঞ্জলিতে বেলপাতা, ফুল, ধান, দুর্বা ব্যবহার করা হয়।

  • ভক্তি সহকারে “ওঁ জয়ন্তী মঙ্গলা কালী…” মন্ত্রে অঞ্জলি দিলে দেবী সন্তুষ্ট হন।

  • বিশ্বাস করা হয়, অষ্টমীর অঞ্জলি দিলে জীবনের পাপ ক্ষয় হয় এবং নতুন জীবনে শুভশক্তির সূচনা হয়।

৪. সিঁদুর, চন্দন ও পুষ্পাঞ্জলি

অষ্টমীর পূজায় মাকে সিঁদুর, চন্দন, ফুল দিয়ে সাজানো হয়। অনেকে লাল জবা বা শিউলি ফুল দিয়ে মাকে ভক্তিসহকারে পুষ্পাঞ্জলি দেন। ফুল দেওয়ার সময় মনে মনে নিজের মনোবাসনা জানালে মা তা পূর্ণ করেন বলে বিশ্বাস।

৫. কুমারী পূজা

অষ্টমীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার হল কুমারী পূজা। নয় বছরের কম বয়সী কন্যাশিশুকেই দেবীর রূপ ধরে পূজা করা হয়।

  • ভক্তরা মনে করেন, কুমারীর মধ্যে মা দুর্গা বাস করেন।

  • পূজার পর কুমারীকে প্রসাদ, নতুন জামা, অলঙ্কার দেওয়া হয়।

  • এই পূজা করলে সংসারে শান্তি, সন্তান সুখ ও দীর্ঘায়ু আসে।

৬. উপবাস বা ব্রত পালন

অষ্টমীর দিনে অনেকে উপবাস বা ব্রত পালন করেন। কারও কারও নিয়ম থাকে শুধু ফলাহার করা।

  • শরীর শুদ্ধ রাখলে মনে ভক্তি আরও দৃঢ় হয়।

  • উপবাসের মাধ্যমে মায়ের প্রতি আত্মসমর্পণ প্রকাশ পায়।

৭. ধুনুচি নাচ ও আরতি

অষ্টমীর রাতে ধুনুচি নাচ ও আরতি এক বিশেষ আচার। ভক্তরা ধুনুচি হাতে নাচ করেন ঢাকের তালে। ধূপ, আলো আর গানের মধ্যে ভক্তি প্রকাশ পায়।

  • আরতির সময় দেবীর উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালালে সংসারের অন্ধকার দূর হয়।

  • বিশ্বাস করা হয়, ভক্তি সহকারে ধুনুচি নাচ করলে মা দুর্গা অশেষ শক্তি দেন।

৮. দান-ধ্যান ও সেবা

আজকের দিনে দরিদ্র বা অসহায় মানুষদের সাহায্য করলে মা বিশেষভাবে খুশি হন।

  • খাবার বিতরণ, জামাকাপড় দান, কিংবা পশু-পাখিকে আহার দেওয়া—সবই শুভকর্ম।

  • মনে রাখতে হবে, দেবী শুধু মূর্তিতে নন, প্রতিটি প্রাণীতে বিরাজ করেন। তাই সেবা মানেই আসল পূজা।

৯. প্রসাদ ভোগ ও ভাগাভাগি

অষ্টমীতে ভোগ দেওয়া হয় মায়ের উদ্দেশ্যে। সাধারণত খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি রান্না হয়।

  • দেবীকে নিবেদন করার পর সেই ভোগ ভক্তরা গ্রহণ করেন।

  • ভোগ ভাগাভাগি করলে পরিবারে মিলন আর আনন্দ বাড়ে।

১০. নিজের মনে শুদ্ধ ভাবনা রাখা

সবচেয়ে বড় কথা, মা দুর্গার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য মনে রাখতে হবে—

  • কারও ক্ষতি না করা।

  • মিথ্যা না বলা।

  • নিজের পরিবার ও সমাজের ভালো চাওয়া।

মা দুর্গা শক্তি, শান্তি আর ন্যায়ের প্রতীক। তাই তাঁর আশীর্বাদ পেতে হলে নিজের মনকেও তাঁর মতো মহৎ করতে হবে।

অষ্টমীতে করণীয় কাজগুলির তালিকা :

করণীয় ফলাফল
ভোরে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরা শরীর-মন পবিত্র হয়
অঞ্জলি দেওয়া পাপ মোচন ও শুভ শক্তির লাভ
কুমারী পূজা সংসারে শান্তি ও সন্তান সুখ
উপবাস পালন আত্মশক্তি ও ভক্তির প্রকাশ
ধুনুচি নাচ ও আরতি অশুভ শক্তি দূর হয়
দান-ধ্যান ও সেবা দেবী বিশেষ খুশি হন
ভোগ প্রদান ও ভাগাভাগি পরিবারে সুখ-শান্তি আসে
ভক্তিমূলক মন্ত্রপাঠ মনোবাসনা পূর্ণ হয়

FAQ

Q1. অষ্টমীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার কী?
👉 অষ্টমীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার হলো কুমারী পূজা ও অঞ্জলি প্রদান।

Q2. অষ্টমীর দিনে কি উপবাস রাখা উচিত?
👉 হ্যাঁ, অনেক ভক্ত এই দিনে উপবাস বা শুধু ফলাহার করেন। এতে ভক্তি ও মনোসংযোগ বাড়ে।

Q3. অষ্টমীতে মাকে কী ধরনের ফুল অর্পণ করা যায়?
👉 লাল জবা, শিউলি, গাঁদা ফুল অর্পণ করলে মা বিশেষ খুশি হন।

Q4. অষ্টমীর দিনে দান-ধ্যান কেন জরুরি?
👉 মা দুর্গা প্রতিটি জীবের মধ্যে বিরাজ করেন। তাই দান-ধ্যান করলে দেবী সন্তুষ্ট হন এবং সংসারে শান্তি আসে।

Q5. অষ্টমীর পূজায় মায়ের আশীর্বাদ কিভাবে পাওয়া যায়?
👉 আন্তরিক ভক্তি, অঞ্জলি, কুমারী পূজা, দান ও সৎকর্মের মাধ্যমে মা দুর্গার আশীর্বাদ লাভ করা যায়।

উপসংহার

অষ্টমী মানেই শুধু উৎসব নয়, ভক্তির দিন। এই দিনে আমরা যদি মন থেকে ভক্তি করি, মা দুর্গা অবশ্যই আমাদের জীবনে শুভশক্তির বর দেন। ভক্তি কখনও বাহ্যিক আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, আসল ভক্তি হল অন্তরের পবিত্রতা। তাই আজকের দিনে শুধু ফুল, ধূপ নয়, নিজের ভালোবাসা আর সৎকর্ম দিয়ে মায়ের চরণে সমর্পিত হও।

মা দুর্গার আশীর্বাদে তোমার জীবন হোক সুখী, শান্তিময় আর সমৃদ্ধ—এই শুভকামনাই রইল।

আরও পড়ুন

👉 এসপ্ল্যানেড মেট্রো থেকে নামলে – দুর্গাপূজার সেরা প্যান্ডেল দর্শনের গাইড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *