পশ্চিমবঙ্গে শুরু হলো গাছের গণনা – কত গাছ আছে

অবিশ্বাস্য! পশ্চিমবঙ্গে শুরু হলো গাছের গণনা – কত গাছ আছে? সুনির্দিষ্ট তথ্য সহ জানতে পড়ুন

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গে গাছের গণনা শুরু — রাজ্যের গাছের সংখ্যা জানতে হবে কেন?

পশ্চিমবঙ্গে গাছের গণনা শুরু

বাংলা ভূমিতে, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরনো। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজ West Bengal (পশ্চিমবঙ্গ) সরকারের একটি উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে — রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গাছের গণনা বা গাছ সংখ্যা নির্ধারণের কাজ। এই “গাছের গণনা” অর্থাৎ গাছের সংখ্যার অভিজ্ঞ তথ্য সংগ্রহ ও তার পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে নিচে একটি সহজ ও সংহত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

গাছের গণনা কী এবং কেন?

“গাছের গণনা” বলতে বোঝায় — কোনো নির্ধারিত এলাকার বনায়ন অংশ, চলমান গাছ, প্রতিবেশে গাছের সংখ্যা, গাছের প্রজাতি ও অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করা। এই কাজটি শুধু গাছ গুনে শেষ নয়, বরং পরবর্তী পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক হয়। যেমন:

  • শহুরে স্থান, গ্রামাঞ্চল বা বনভূমির গাছ-লতা ও সবুজ অংশ কতটুকু আছে তা নিরূপণ।

  • গাছ কাটা বা গাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ায় তথ্যভিত্তিক ব্যাকআপ পাওয়া।

  • পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় গাছের ভূমিকা তুলে ধরা।

উদাহরণস্বরূপ, Forest Survey of India-এর ও প্রকাশিত একটি পাইলট সার্ভেতে দেখা গেছে — পশ্চিমবঙ্গের ২৫টি গ্রামে ৪৯.৪৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় গাছগাছালির দ্রুত পরিমাপ করা হয়েছিল। সেই সার্ভেতে ১,২৫,৬৩৪টি গাছ নির্ধারণ করা হয়েছিল, অর্থাৎ প্রতি হেক্টরে ২৫.৪১টি গাছ।

আরেকটি দৃষ্টান্ত — রাজ্যের নয়াড়া বা শহুরে এলাকায় দেখা গেছে, সেখানকার গাছের পরিমাণ কমেছে; যেমন শহুরে সবুজ অংশ ২০১৭ থেকে ২০১৯-এ ৬.১% কমেছে।

এই তথ্যগুলি প্রমাণ করে: গাছের গণনা শুধু সংখ্যার খেলা নয় — এটা পরিবেশ রক্ষার ভিত্তি।

পশ্চিমবঙ্গের গাছের গণনার বর্তমান অবস্থা

পশ্চিমবঙ্গে গাছের গণনা বা গাছবৃক্ষ ইনভেন্টরির উদ্যোগ বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে। নিচে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:

  • Kolkata Municipal Corporation (কে এম সি)-র আওতায় কলকাতার ৫০টি ওয়ার্ডে গাছের গণনা শুরু হয়েছিল।

  • Jadavpur University-র ক্যাম্পাসেও গাছের গণনা শুরু হয়েছে — ক্যাম্পাসভিত্তিক নম্বর ট্যাগিং ও জিপিএসসহ।

  • একটি পাইলট ইনভেন্টরিতে ২৫টি গ্রামে প্রতি হেক্টরে গাছ ও তাদের প্রজাতি বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।

এইসব তথ্য থেকে বোঝা যায় — গাছের গণনায় রাজ্য সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তবে যেসব অংশে এখনো সম্পূর্ণ তথ্য নেই, সেসব এলাকায় আরও কাজ বাকি আছে।

শহরের সড়ক

আমরা কত গাছ খুঁজে পেয়েছি? কিছু সংখ্যাগত তথ্য

পূর্ব তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে কিছু সংখ্যাগত ধারণা দেওয়া যাক (যদিও প্রতিটি জেলার বা ব্লকের জন্য সুনির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট-ডেটা এখনো সর্বজনীনভাবে পাওয়া যাচ্ছেনা)।

  • পাইলট সার্ভেতে ১,২৫,৬৩৪টি গাছ পাওয়া গেছে ৪৯.৪৪ বর্গকিমি এলাকায়।

  • শহুরে সবুজ অংশের জরিপে দেখা গেছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে রাজ্যে নন-ফরেস্ট গা্াছালির (non-forest greenery) অংশ ২১৩৬ বর্গকিমি থেকে কমে ২০০৬ বর্গকিমিতে গেছে।

  • আলাদা উদাহরণস্বরূপ, New Town Kolkata-এ কেবল সেকশনে ২২,৮০০টি গাছ রয়েছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এই সংখ্যাগুলি থেকে বোঝা যায় — গাছের পরিমাণ ও তার রূপ-কায়িক অবস্থা পরিবর্তনে রয়েছে চ্যালেঞ্জ।

গাছের গণনা ও তার গুরুত্ব

অবিশ্বাস্য! পশ্চিমবঙ্গে শুরু হলো গাছের গণনা – কত গাছ আছে? সুনির্দিষ্ট তথ্য সহ জানতে পড়ুন

১. পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ

গাছ অক্সিজেন উৎপাদন করে, কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে, উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। শহুরে এলাকায় গাছ কমে গেলে গরম বেড়ে যায়, বায়ুদূষণ বাড়ে। ভারতের এক গবেষণামতে, গাছের গণনায় থাকা তথ্যের ভিত্তিতে গাছের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

২. নগর পরিকল্পনায় সহায়তা

শহরের সড়ক বা নির্মাণ কাজের সময় গাছ কাটা বা সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গাছের ইনভেন্টরি বা গাছের সংখ্যা জানা থাকলে ভালো পরিকল্পনা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, কলকাতায় অনেক পুরনো গাছ রাস্তা চওড়াকরণের জন্য কাটার ঘটনা ঘটেছে।

৩. আইন-বিধি ও সংরক্ষণ

রাজ্য-অঞ্চলে গাছ সংরক্ষণের জন্য আইন রয়েছে — যেমন West Bengal Trees (Protection and Conservation) in Non‑Forest Areas Rules-এর রুল অনুযায়ী, যথাযথ গাছ ইনভেন্টরি ও অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া যায় না।

৪. সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য দৃষ্টিকোণ

সবুজ জায়গা মানসিক শান্তি ও চেতনামূলক শান্তির উৎস। গ্রামদুপুর বা শহরের সবুজ অংশ কমে গেলে মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব হতে পারে। একদিকে গাছের সংখ্যা বাড়লে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য উন্নত হয়।

শহরের সড়ক

কোন চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে?

গাছের গণনা বা ইনভেন্টরিতে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ আছে — যা রাজ্যের জন্য প্রাসঙ্গিক।

  • তথ্য সংগ্রহ ও আপডেট করা: পুরনো গাছ কাটার পর নতুন গাছ লাগালেও তথ্য আপডেট নাও হতে পারে।

  • শহুরে অংশে দ্রুত পরিবর্তন: রাস্তা, মেট্রো, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য পুরনো গাছ কাটা হয়েছে।

  • সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তি: রাজ্যের সব জেলায় বা প্রতিটি ব্লকে গাছ-ইনভেন্টরি নেই বা নিয়মানুবর্তিতভাবে হয় নি।

  • অঞ্চলে আলাদা প্রজাতি ও বাড়তি ব্যয়ের দরকার হয়: উদাহরণস্বরূপ, গাছের বয়স, প্রজাতি, স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ করতে জিপিএস ও ডিজিটাল ম্যাপিং দরকার। তাহলে পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।

আমাদের করণীয় – একসাথে গাছ রক্ষা করতে করণীয়

১. স্থানীয়ভাবে অংশগ্রহণ

আপনার এলাকা, বাড়ি বা পাড়া-মহল্লায় গাছ রাখুন, পরিচর্যা করুন। গাছের গণনার যে ধাপ চলছে, ওই মুহূর্তে স্থানীয়ভাবে সক্রিয় হওয়া ভালো হবে।

২. তথ্য দিন ও সচেতনতা বাড়ান

যদি এলাকায় পুরনো বা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ থাকে, সংশ্লিষ্ট পৌরসভা/পঞ্চায়েত বা বন দপ্তরে জানান। গাছের ইনভেন্টরিতে স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

৩. নতুন গাছ লাগান

কোনো গাছ কাটা হয়েই থাকলে বা হয়, তার বিপরীতে কয়েকটি গাছ লাগানো (প্রতিটি কাটার গাছের বিপরীতে দুই-তিনটি লাগানো) ভালো ধারণা। রাজ্যের রুল অনুযায়ী, গাছ কাটলে নতুন গাছ লাগাতে বলা হয়েছে।

৪. প্রযুক্তি ও ম্যাপিং ব্যবহারে উৎসাহ দিন

শহরে যেমন Kolkata Metropolitan Development Authority (KMDA)-র উদ্যোগ — গাছের সংখ্যা নির্ধারণ ও QR কোড স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে। আমরা এই ধরনের প্রযুক্তিকে উৎসাহ দিতে পারি।

ভবিষ্যতের দিকে এক নজরে

পশ্চিমবঙ্গের গাছ-সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য আগামী সময়ে যা হওয়া প্রয়োজন:

  • পুরো রাজ্য জুড়ে একটি একক কেন্দ্রীয় গাছ ইনভেন্টরি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা।

  • প্রতিটি জেলা ও ব্লকে নিয়মিত গাছের গণনা (সকল প্রজাতি, বয়স, স্বাস্থ্যসহ) করা।

  • শহুরে পরিবেশের জন্য পরিকল্পিত গাছ লাগানোর নীতি — শুধু গাছ লাগানো নয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাঁচার মতো গাছ।

  • জনসাধারণকে গাছ রক্ষার বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা প্রচার।

  • গাছ কাটার ক্ষেত্রে বিকল্প (যেমন: রাস্তা নির্মাণ হলে কম বিকল্প প্রভাব) বিবেচনায় নেওয়া।

সংক্ষেপে বলি

পশ্চিমবঙ্গ সরকার গাছের গণনায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের প্রজন্ম ও আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ থাকবে কী না — সে দৃষ্টিকোণ থেকে এটা অত্যন্ত জরুরি। তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা না থাকলে গাছ শুধু “লাগিয়ে দেয়া” হয়ে থাকবে, কিন্তু “বাঁচিয়ে রাখা” সম্ভব হবে না।

আপনার এলাকায় গাছের অবস্থা, গণনা অথবা গাছ রক্ষার উদ্যোগের ক্ষেত্রে যদি আপনি আরও জানতে চান বা কিছু করতে চান — তাহলে অবশ্যই বলুন, আমি সহায়তা করতে পারি।

আরও পড়ুন :

নন্দন সিনেমা হলে আজ থেকে শুরু ওয়ার্ল্ড মুভি ফেস্টিভ্যাল ২০২৫ — ৪৫ দেশের ছবি, তারকায় ভরা উদ্বোধন!

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *