WBBSE নির্দেশ: নির্বাচনী পরীক্ষায় বিতর্কিত প্রশ্ন নিষিদ্ধ

WBBSE নির্দেশ: নির্বাচনী পরীক্ষায় বিতর্কিত প্রশ্ন নিষিদ্ধ

Spread the love

WBBSE নির্দেশ: নির্বাচনী পরীক্ষায় বিতর্কিত প্রশ্ন নিষিদ্ধ

WBBSE নির্দেশ: নির্বাচনী পরীক্ষায় বিতর্কিত প্রশ্ন নিষিদ্ধ

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা মহলে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE)–এর এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা বা সিলেকশন টেস্টে কোনোভাবেই বিতর্কিত বা সংবেদনশীল প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না

এই নির্দেশনা রাজ্যের সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের মতে, শিক্ষা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে রাজনীতি, ধর্ম, জাতি বা ব্যক্তিগত মতামতের কোনো স্থান নেই। তাই প্রশ্নপত্র তৈরি করার সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

নির্দেশনার মূল বক্তব্য

WBBSE–এর পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু স্কুলে এমন কিছু প্রশ্ন এসেছে যা সামাজিকভাবে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে অথবা ছাত্রছাত্রীদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। বোর্ড বলেছে,

“প্রশ্নপত্র তৈরি করার সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আরও সতর্ক হতে হবে। কোনো রকম রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত বা বিতর্কিত বিষয় যেন প্রশ্নপত্রে না আসে।”

এই নির্দেশ শুধুমাত্র বাংলা বা ইতিহাস নয়, বরং সমস্ত বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, ইংরেজি, ভূগোল, নাগরিক বিদ্যা, বিজ্ঞান কিংবা গণিত — যেকোনো প্রশ্নপত্র তৈরি করতে গেলে শিক্ষকরা এখন আরও সচেতন থাকতে হবে।

নির্বাচনী পরীক্ষার গুরুত্ব

দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা বা Selection Test হল মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির মূল ধাপ। এই পরীক্ষার ফলাফলই নির্ধারণ করে, একজন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে পারবে কি না। তাই এই পরীক্ষা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক নয়, মানসিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

WBBSE–র মতে, এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় নিরপেক্ষতা ও শিক্ষার মান বজায় রাখা সর্বাধিক প্রয়োজনীয়। বিতর্কিত প্রশ্ন থাকলে তা ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট হতে পারে।

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকা

বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি স্কুলে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের আগে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি প্রশ্নপত্র যাচাই করবে এবং দেখবে কোনো প্রশ্ন সংবেদনশীল বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত কিনা।

একজন কলকাতার সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেছেন,

“বোর্ডের নির্দেশ অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সবসময় চেষ্টায় থাকেন নিরপেক্ষ প্রশ্ন তৈরি করতে, তবে এখন থেকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।”

অনেকে মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষার পরিবেশ আরও নির্ভেজাল ও মনোনিবেশকেন্দ্রিক হবে।

কেন এই নির্দেশ এখন প্রয়োজনীয়?

WBBSE নির্দেশ: নির্বাচনী পরীক্ষায় বিতর্কিত প্রশ্ন নিষিদ্ধ

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজ্যে দেখা গেছে, কিছু পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন কিছু প্রশ্ন এসেছে যা রাজনৈতিক মতামত বা সামাজিক প্রসঙ্গকে স্পর্শ করেছে। এর ফলে অনেক সময় বিতর্ক, প্রতিবাদ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

WBBSE এই সম্ভাবনাকে রুখতেই আগেভাগে ব্যবস্থা নিয়েছে।
বোর্ড মনে করে, ছাত্রছাত্রীদের মন গঠনের বয়সে তাদের সামনে এমন প্রশ্ন রাখা উচিত নয় যা কোনো বিশেষ মতাদর্শকে প্রভাবিত করে।

একজন শিক্ষা বিশারদ বলেন,

“আজকের ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনের নাগরিক। তাদের চিন্তাভাবনা গঠনের সময় যদি শিক্ষা নিরপেক্ষ না থাকে, তবে ভবিষ্যতে তার প্রভাব সমাজে পড়বে।”

স্কুলগুলির প্রতিক্রিয়া

রাজ্যের প্রায় সব স্কুলই বোর্ডের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে। কিছু স্কুল ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ মিটিং করে ঠিক করেছে যে, প্রশ্নপত্র তৈরির আগে শিক্ষকরা একে অপরের প্রশ্ন দেখে নেবেন।

একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা জানান,

“আমরা সবসময় চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা গড়ে তুলতে। এই নির্দেশ আমাদের কাজকে আরও পরিষ্কারভাবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।”

অনেক স্কুলে এমনও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, যদি কোনো প্রশ্ন বিতর্কিত বলে মনে হয়, তাহলে সেটি অবিলম্বে পরিবর্তন করা হবে।

ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মতামত

ছাত্রছাত্রীদের একাংশ মনে করছে, এই নির্দেশ তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। কারণ এতে পরীক্ষার প্রশ্ন এখন শুধুমাত্র পাঠ্যসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

একজন দশম শ্রেণির ছাত্রী বলেন,

“আমরা চাই প্রশ্ন যেন শুধু বইয়ের মধ্যে থেকে আসে। বাইরের কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে অনেক সময় আমরা ঠিকভাবে উত্তর দিতে পারি না।”

অভিভাবকেরাও বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে খুশি। তাদের মতে, এতে পরীক্ষার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তিও কমবে।

বোর্ডের পরবর্তী পরিকল্পনা

WBBSE সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দেশ কেবল নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য নয়, ভবিষ্যতে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। বোর্ড পরিকল্পনা করছে, সমস্ত প্রশ্নপত্র তৈরির একটি একীভূত নীতিমালা তৈরি করা হবে, যেখানে শিক্ষকরা কীভাবে প্রশ্ন করবেন, কোন বিষয় এড়াতে হবে — তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে।

তাছাড়া, বোর্ড খুব শিগগিরই একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মশালা (Webinar) আয়োজন করতে চলেছে, যেখানে শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের আধুনিক পদ্ধতি ও সতর্কতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পাবেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব

এই নির্দেশের ফলশ্রুতিতে রাজ্যের স্কুলগুলিতে একটি পেশাগত দায়িত্ববোধ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্নপত্র তৈরি করার সময় শিক্ষকরা এখন শুধু পাঠ্যবিষয়ের গভীরতা নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধও মাথায় রাখবেন।

অন্যদিকে, ছাত্রছাত্রীরাও এখন আরও নির্ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। পরীক্ষার পরিবেশ হবে আরও শিক্ষানুরাগী ও স্বাস্থ্যকর।

FAQs 

প্রশ্ন 1: WBBSE–এর নতুন নির্দেশ কী নিয়ে?

উত্তর: WBBSE জানিয়েছে যে, দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষায় কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা বিতর্কিত প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। বোর্ডের লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পাঠ্যসূচি নির্ভর রাখা।

প্রশ্ন 2: এই নির্দেশ কাদের জন্য প্রযোজ্য?

উত্তর: এই নির্দেশ রাজ্যের সব মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের জন্য প্রযোজ্য — সরকারি, বেসরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল — সকলের প্রশ্নপত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

প্রশ্ন 3: কেন বোর্ড এই পদক্ষেপ নিয়েছে?

উত্তর: সাম্প্রতিক কিছু স্কুলে প্রশ্নপত্রে বিতর্কিত বিষয় আসায় বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্তি না হয় এবং পরীক্ষার মান নিরপেক্ষ থাকে।

প্রশ্ন 4: এই নিয়ম কি শুধু নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য?

উত্তর: আপাতত এটি নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য, তবে বোর্ড জানিয়েছে ভবিষ্যতে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও একই ধরনের নির্দেশ প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রশ্ন 5: স্কুলগুলো কীভাবে নির্দেশ মানবে?

উত্তর: প্রতিটি স্কুলে একটি বিশেষ প্রশ্ন যাচাই কমিটি গঠন করা হবে, যারা প্রশ্নপত্র পরীক্ষা করে দেখবে কোনো সংবেদনশীল বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিনা।

প্রশ্ন 6: ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই নির্দেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: ছাত্রছাত্রীরা এখন আরও নিশ্চিন্তে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে, কারণ প্রশ্ন থাকবে শুধুমাত্র পাঠ্যসূচির মধ্যে এবং কোনো বিভ্রান্তিকর বিষয় থাকবে না।

শেষ কথা

WBBSE–র এই নতুন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। শিক্ষাকে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং বিতর্কমুক্ত রাখাই এই নির্দেশের মূল লক্ষ্য।

আজকের প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া মানে শুধু বই পড়ানো নয় — তাদের মধ্যে বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, যুক্তিবোধ এবং ন্যায়ের মূল্যবোধ গড়ে তোলা। এই নির্দেশ সেই দিকেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।

Read More:

👉 শিক্ষা বোর্ডের সতর্কতা: নির্বাচনী পরীক্ষায় বিতর্কিত বিষয় এড়াতে স্কুলগুলিকে নির্দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *