তিস্তায় বাঁধ দেওয়া ‘সামাজিক অপরাধ’! উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

তিস্তায় বাঁধ দেওয়া ‘সামাজিক অপরাধ’! উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Spread the love

উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়: তিস্তায় বাঁধ ‘সামাজিক অপরাধ’, কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর!

উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি ঘিরে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার উত্তরকন্যা থেকে তিনি তীব্র ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “উত্তরবঙ্গে এত বড় বিপর্যয় হলো, কেউ এসেছে? এক পয়সাও দিয়েছে? কিছুই দেয়নি!”

উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়: তিস্তায় বাঁধ ‘সামাজিক অপরাধ’, কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর!

তিনি অভিযোগ করেন, ভুটান ও সিকিম থেকে নেমে আসা জলের কারণে উত্তরবঙ্গে বারবার বন্যা হচ্ছে। সিকিমে তিস্তা নদীর উপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রতি বছর উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ির মতো জায়গাগুলিকে বিপর্যস্ত করছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “তিস্তাকে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু অপরাধ নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ।”

আরও পড়ুন :

দিল্লির লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! মৃত ৮, উদ্ধার ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক – কি বড়সড় জঙ্গি হামলার ইঙ্গিত?

December से महंगे होंगे Jio, Airtel और Vi के रिचार्ज प्लान! जानें कितना देना पड़ेगा अब हर महीने

 

কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

মমতা প্রশ্ন তোলেন, “কীভাবে কেন্দ্র সিকিমে এই বাঁধের অনুমতি দিল? তিস্তাকে বাঁচাতে হবে—এই ভাবনা কোথায়?” তিনি বলেন, বন্যার ফলে রাজ্যের বনভূমি, কৃষিজমি ও চা-বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ কেন্দ্র এই বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। মুখ্যমন্ত্রী ফের দাবি তোলেন, ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গঠন করা জরুরি।

একইসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডিভিসির জল ছাড়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গে বারবার প্লাবন হয়। দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় জল জমার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গঙ্গার নাব্যতা কমেছে, কিন্তু কেন্দ্র কোনও উদ্যোগ নেয়নি। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও উত্তরাখণ্ডের জল গঙ্গা দিয়ে বাংলায় আসে—তাহলে ড্রেজিং কেন করা হচ্ছে না?”

আর্থিক সাহায্যে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ

মমতা অভিযোগ করেন, দুর্যোগের পরে কেন্দ্র কোনও আর্থিক সাহায্য দেয়নি। তিনি জানান, অতীতে রাজ্য সরকার বারবার অর্থ চাইলেও কেন্দ্র সহযোগিতা করেনি। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালের বন্যায় ১২০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেপ্টেম্বরে আরও ১৪০০ কোটি, গত বছর নদীভাঙন ও ভূমিধসের জন্য ৪২৩৩ কোটি এবং ঘূর্ণিঝড় ডেনার সময় ১৬৮৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক টাকাও আসেনি বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগ

দুর্যোগের পরে মুখ্যমন্ত্রী তৃতীয়বারের মতো উত্তরবঙ্গে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তিনি জানান, ১১,৫৫৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ৩,২৩৯টি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য মোট ১৬১ কোটি টাকার অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের জন্যও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। সরষে, গম, ভুট্টা, আলু ও অন্যান্য ফসলের বীজ বিতরণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ১৬ হাজার কৃষকের মধ্যে। পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের কমলালেবু, আদা ও বড় এলাচের চারা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, রাজ্যের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মমতা। তিনি জানান, কেন্দ্র গ্রামীণ আবাসন প্রকল্পে সাহায্য বন্ধ করার পরে রাজ্য নিজস্ব উদ্যোগে ১২ লক্ষ পরিবারকে ঘর দিয়েছে এবং আরও ১৬ লক্ষ পরিবার এই সুবিধা পাবে।

আরও পড়ুন :

लाल किला धमाका LIVE: आतंकी साजिश का खुलासा, 11 की मौत – जानें कैसे हुआ ब्लास्ट!

राजस्थान का बड़ा फैसला! अब दो से ज्यादा बच्चे होने पर भी लड़ सकेंगे पंचायत और नगर निगम चुनाव!

 

মহাকাল মন্দির ট্রাস্ট ও চা-বাগানের উদ্যোগ

উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির উন্নয়নের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। ১৭.৪ একর জমি বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য।

চা-বাগান নিয়ে কেন্দ্রকেও আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র নির্বাচনের আগে চা-বাগান খোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছুই করেনি। তবে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ২৪টি বন্ধ চা-বাগান খুলেছে, এবং ৩৯ হাজারেরও বেশি চা শ্রমিককে পাট্টা দেওয়া হয়েছে।

চা-বাগান এলাকায় চিতাবাঘের আতঙ্ক এড়াতে ১০টি স্কুল বাসও দেওয়া হচ্ছে শিশুদের জন্য।

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী সমালোচনা করেন বিজেপির, যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান নিয়ে রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথকে নিয়েও রাজনীতি করতে হবে? আমরা ‘জনগণমন’ আর ‘বন্দেমাতরম’—দুটোকেই সমান সম্মান করি।”

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *