উত্তরবঙ্গে টানা বর্ষণ পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা – প্রশাসনের সতর্ক অবস্থায়

উত্তরবঙ্গে টানা বর্ষণ পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা – প্রশাসনের সতর্ক অবস্থায়

Spread the love

উত্তরবঙ্গে টানা বর্ষণ পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা – প্রশাসনের সতর্ক অবস্থায়

উত্তরবঙ্গে টানা বর্ষণ পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা – প্রশাসনের সতর্ক অবস্থায়

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা, সম্প্রতি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং তার ফলে সৃষ্ট ভূমিধসের কারণে বহু গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

🌧️ পরিস্থিতির ভয়াবহতা

গত ৪ অক্টোবর রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিং জেলার মিরিক, কার্শিয়ং, রাংভং ও পুল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। বিভিন্ন রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

এছাড়া, ভুটান সরকারের ওয়াং নদীর টালা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণ হতে পারে।

🚨 প্রশাসনের পদক্ষেপ

দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ ও সেনাবাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মিরিকের ক্ষতিগ্রস্ত সেতু পুনর্নির্মাণে এক বছর সময় লাগবে, তবে অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও একটি করে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।

🏞️ ভূমিধসের কারণ ও প্রভাব

উত্তরবঙ্গে টানা বর্ষণ পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা – প্রশাসনের সতর্ক অবস্থায়

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও মানবসৃষ্ট অবকাঠামোগত চাপ। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ ও বৃক্ষচ্ছেদন ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এছাড়া, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধগুলোর অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর জলস্তর অনেকটাই নেমে গিয়েছে, তবে দুর্যোগের চিহ্ন এখনও কোথাও কোথাও স্পষ্ট। উদ্ধারকাজে কোনও খামতি রাখছে না প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভুটান এবং সিকিমের জলে উত্তরবঙ্গে বন্যা হয়েছে এবং ১২ ঘণ্টায় টানা ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র বন্যা ব্যবস্থাপনার জন্য রাজ্যকে পর্যাপ্ত অর্থ সাহায্য দেয়নি।

জনগণের করণীয়

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের করণীয় হলো:

  • বৃষ্টির সময় পাহাড়ি এলাকায় না যাওয়া।

  • ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে এমন এলাকায় অবস্থান না করা।

  • প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা।

  • দুর্গত এলাকায় আটকে পড়লে প্রশাসনকে জানানো।

  • ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান।

🌈 আশা ও পুনর্নির্মাণ

দুর্যোগের পরবর্তী সময়ে পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও দুর্গত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের সহায়তা প্রদানে আশ্বাস দিয়েছেন।

উপসংহার

উত্তরবঙ্গের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের সবাইকে সতর্ক করে দেয়। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। দুর্যোগের সময় একে অপরকে সহায়তা করা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা আমাদের সবার দায়িত্ব। আশা করা যায়, এই দুর্যোগ কাটিয়ে উত্তরবঙ্গ আবারও তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

এটাও দেখুন

👉 দক্ষিণবঙ্গে ঘন মেঘের চাদর – আলিপুর আবহাওয়া দফতরের নতুন সতর্কতা জারি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *