কলকাতার আজকের আবহাওয়া ও বায়ু গুণমান নিয়ে উদ্বেগ — দূষণের ছায়ায় মহানগর

কলকাতার আজকের আবহাওয়া ও বায়ু গুণমান নিয়ে উদ্বেগ — দূষণের ছায়ায় মহানগর

Spread the love

কলকাতার আজকের আবহাওয়া ও বায়ু গুণমান নিয়ে উদ্বেগ — দূষণের ছায়ায় মহানগর

কলকাতার আজকের আবহাওয়া ও বায়ু গুণমান নিয়ে উদ্বেগ — দূষণের ছায়ায় মহানগর

আজকের কলকাতার সকালটা শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা আর ধোঁয়াশায় ঢাকা আকাশ নিয়ে। সূর্যের আলো ঠিকঠাকভাবে মাটিতে পৌঁছাতে পারেনি সকাল থেকেই। অনেকেই অফিসে বের হওয়ার সময়ই টের পেয়েছেন, বাতাসে যেন একটা ভারি ভাব—শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, চোখে সামান্য জ্বালাভাব। এই সময়টাতে কলকাতার আবহাওয়া সাধারণত একটু শুষ্ক থাকে, কিন্তু এ বছর যেন পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা।

আজকের আবহাওয়া:

আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের বেলায় গরমটা খুব একটা অসহনীয় নয়, কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা অনেকটাই বেশি। আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। বিকেলের দিকে হালকা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বাতাস বইছে, তবে সেটা যথেষ্ট নয় শহরের দূষণকে ছড়িয়ে দিতে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব কম। তবে মেঘলা আকাশ বজায় থাকতে পারে। সন্ধ্যার পর বাতাসে ধোঁয়াশা আরও ঘন হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

বায়ু গুণমান নিয়ে উদ্বেগ:

কলকাতার বায়ু গুণমান সূচক বা AQI আজ সকাল ৮টার সময় ছিল ১৮০ থেকে ২০০-এর মধ্যে, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিতে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মান দীর্ঘসময় ধরে থাকলে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভোগা মানুষের জন্য তা বিপজ্জনক হতে পারে।

এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং কেন্দ্রগুলোর তথ্য বলছে—

  • বালিগঞ্জ এবং পোস্তা অঞ্চলে AQI প্রায় ২০০ ছাড়িয়েছে,

  • ডালহৌসি এবং সল্টলেক সেক্টর-ভি অঞ্চলেও সূচক ১৮০-এর কাছাকাছি।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হলো, এই দূষণের উৎস শুধু গাড়ির ধোঁয়া নয়। নির্মাণকাজ, রাস্তার ধুলা, এমনকি পুজোর সময় বাজি ও ফানুসের ধোঁয়াও বাতাসে মিশে গিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

নাগরিকদের সমস্যায় ভরা দিন:

আজ সকাল থেকেই অনেকে জানিয়েছেন, বাইরে বেরোলে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, চোখে হালকা জ্বালা করছে। বিশেষ করে যারা সকালে হাঁটতে বেরোন, তাদের অনেকেই আজ মাস্ক পরে বেরিয়েছেন। অনেক অভিভাবক আবার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সময় মাস্ক পরিয়ে দিয়েছেন।

একজন অফিসগামী মানুষ বললেন—

“সকালে বেরোতেই মনে হচ্ছিল বাতাসে যেন ধোঁয়ার পরত আছে। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। চোখে জ্বালা আর মাথা ভার হয়ে আসছিল।”

এই সমস্যাগুলি এখন আর কেবল একদিনের নয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বায়ু মান ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত যত ঘনাবে, দূষণের মাত্রা আরও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

কলকাতার আজকের আবহাওয়া ও বায়ু গুণমান নিয়ে উদ্বেগ — দূষণের ছায়ায় মহানগর

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে যানবাহনের ধোঁয়া, পুরনো ডিজেল ইঞ্জিন, এবং অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ—সব মিলিয়ে বায়ুর গুণমান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ড. অরূপ মুখার্জি বললেন—

“এই সময়টা খুবই বিপজ্জনক। আর্দ্রতা ও ঠান্ডা মিলিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়, আর দূষণকণাগুলি মাটির কাছেই থেকে যায়। ফলে মানুষ সেই দূষিত বাতাসই শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করছে।”

তিনি আরও জানান, ছোটদের স্কুলের বাইরে বেশি সময় না থাকতে দেওয়াই ভালো, এবং যাঁদের হাঁপানি বা ফুসফুসের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য ইনহেলার বা মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা উচিত।

দূষণ রোধে প্রয়োজন উদ্যোগ:

সরকার ও নাগরিক—দু’পক্ষেরই উদ্যোগ প্রয়োজন। কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যেই কিছু এলাকায় রাস্তা জল ছিটিয়ে ধুলা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি নির্মাণ সংস্থাগুলিকে কভারিং নেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে পরিবেশবিদদের মতে, এই পদক্ষেপগুলি যথেষ্ট নয়।

একটি বড় সমস্যা হলো পুরনো ডিজেল গাড়ি ও বাস। এগুলোর ধোঁয়া সবচেয়ে ক্ষতিকর। তাই নিয়মিত গাড়ির এমিশন টেস্ট, নির্মাণবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আর সাধারণ মানুষের সচেতনতা—সবকিছু মিলিয়েই বায়ু দূষণ কমানো সম্ভব।

নাগরিকদের করণীয়:

প্রতিটি মানুষ যদি কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলায়, তাহলেই অনেকটা পার্থক্য আনা সম্ভব। যেমন—

  • প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করা,

  • গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করা,

  • বাজি ফাটানো থেকে বিরত থাকা,

  • ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা,

  • শিশু ও প্রবীণদের বাইরে কম সময় রাখা।

ভবিষ্যতের চিন্তা:

কলকাতা একসময় “সবুজ শহর” বলে পরিচিত ছিল। কিন্তু আজ সেই শহরের বাতাসেই বিষ মিশে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। যদি এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরে শহরের পরিবেশ পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের প্রতিটি মানুষ যদি নিজেদের দায়িত্ব বোঝে, তাহলে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। কারণ দূষণ রোধে সরকার যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।

আজকের দিনে কলকাতার আবহাওয়া যেমন শুষ্ক ও ভারি, তেমনি মানুষের মনেও একটা অস্বস্তি জমে উঠছে। সবাই চায়, এই প্রিয় শহর আবার আগের মতো শ্বাস নিতে পারুক। বাচ্চারা যেন স্কুলের মাঠে নির্ভয়ে দৌড়াতে পারে, প্রবীণরা যেন সকালে নিঃশ্বাস নিতে ভয় না পান।

শেষ কথা:

কলকাতার আজকের আবহাওয়া ও বায়ু গুণমান নিয়ে উদ্বেগের কারণ বাস্তব। দূষণ এখন শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, এটা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। এখনই যদি সবাই মিলে পদক্ষেপ না নিই, তাহলে আগামী দিনে শ্বাস নেওয়াটাই একপ্রকার বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াবে।

তাই এখন সময় এসেছে একসঙ্গে ভাবার, একসঙ্গে কাজ করার—যাতে কলকাতা আবার তার পুরনো প্রাণ ফিরে পায়।

এটাও দেখুন

👉 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন — ‘কলকাতা সবচেয়ে নিরাপদ শহর, বিজেপিই সবচেয়ে অনিরাপদ দল’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *