কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের নির্দেশ — কালীপুজো ও দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্তই পটকা ফাটানো যাবে

কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের নির্দেশ — কালীপুজো ও দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্তই পটকা ফাটানো যাবে

Spread the love

কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের নির্দেশ — কালীপুজো ও দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্তই পটকা ফাটানো যাবে

কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের নির্দেশ — কালীপুজো ও দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্তই পটকা ফাটানো যাবে

আসন্ন উৎসবের মরশুমে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে পটকা ও আকাশপট্টির ব্যবহার। দুর্গাপুজো, কালীপুজো কিংবা দীপাবলিতে আলো ও শব্দের মিশ্রণে আনন্দের রঙ ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য জুড়ে। তবে এই আনন্দ যেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিশৃঙ্খলায় না পরিণত হয়, সেই কারণেই পুলিশ এবার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে পটকা ও আকাশপট্টি ব্যবহারের সময়সীমা।

কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে—নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কোনোভাবেই পটকা বা আকাশপট্টি ফাটানো যাবে না। পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড একত্রে বসে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।

কখন ফাটানো যাবে পটকা ও আকাশপট্টি

পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, কালীপুজো ও দীপাবলির দিন সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পটকা ও আকাশপট্টি ব্যবহার করা যাবে। তার আগে বা পরে পটকা ফাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, বড়দিন ও নববর্ষের আগের রাতে (৩১ ডিসেম্বর) সময়সীমা রাখা হয়েছে রাত ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ মাত্র ৩৫ মিনিটের জন্য অনুমতি মিলবে আতসবাজির।

পুলিশ জানিয়েছে, এই সময়সীমার বাইরে কেউ যদি পটকা ফাটান বা আকাশপট্টি উড়ান, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শব্দ দূষণ ও বায়ুদূষণ রোধ করতেই এই কঠোরতা।

পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে

প্রতি বছরই পটকার ধোঁয়া ও শব্দে শহরের বায়ুগুণমান ভয়াবহ রকমের খারাপ হয়ে পড়ে। কলকাতা সহ বেশ কিছু শহর উৎসবের পরদিন “গুরুতর দূষিত” (Severe Pollution) স্তরে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষদের জন্য এই সময়টি হয় ভয়ানক কষ্টের। তাই এবার প্রশাসন আগে থেকেই উদ্যোগ নিয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণে।

পুলিশ জানিয়েছে, পটকা বা আকাশপট্টি ব্যবহারের অনুমতি থাকবে শুধু সবুজ পটকা (Green Crackers)-এর ক্ষেত্রে। এসব পটকা তুলনামূলকভাবে কম ধোঁয়া ও শব্দ তৈরি করে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের অনুমোদিত দোকান থেকেই এগুলি কেনা যাবে।

কোথায় ফাটানো যাবে, কোথায় নয়

কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের নির্দেশ — কালীপুজো ও দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্তই পটকা ফাটানো যাবে

নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, স্কুল, হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম, পশু হাসপাতাল বা সরকারি দপ্তরের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের পটকা ফাটানো যাবে না। শহরের বিভিন্ন পার্ক ও খোলা জায়গায় নির্দিষ্ট কিছু জায়গাকে “সেফ জোন” হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যেখানে সীমিত সময়ের মধ্যে আতসবাজি ফাটানো যাবে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই থানাভিত্তিক তালিকা তৈরি করছে কোন এলাকায় পটকা ফাটানো যাবে এবং কোথায় সম্পূর্ণ নিষেধ। যাতে মানুষ আগেভাগেই জেনে নিতে পারেন এবং অপ্রয়োজনে কোনো জটিলতায় না পড়েন।

শব্দের সীমা

পরিবেশ দপ্তর জানিয়েছে, পটকার শব্দসীমা সর্বাধিক ৯০ ডেসিবেল (dB) পর্যন্ত হতে পারবে, সেটিও পাঁচ মিটার দূরত্বে মাপা হলে। এর বেশি শব্দ উৎপন্নকারী পটকা অবৈধ বলে গণ্য হবে এবং সেই সব পটকা বাজি দোকান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এই বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেছেন, “উৎসবের আনন্দ যেন কারও অসুবিধার কারণ না হয়। তাই আমরা চাই সবাই নিয়ম মেনে উৎসব উপভোগ করুন। কেউ নিয়ম ভাঙলে আইনি ব্যবস্থা অনিবার্য।”

অভিযানের প্রস্তুতি

দীপাবলির আগেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ নজরদারি শুরু করবে পুলিশ। রাতের বেলায় ড্রোনের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও থাকবে মাঠে-ময়দানে। যেসব দোকানে অবৈধ পটকা বিক্রি হচ্ছে, সেখানেও অভিযান চলবে।

রাজ্য পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “আমরা চাই মানুষ আনন্দ করুক, কিন্তু আইন ভেঙে নয়। এবার থেকে কেউ যদি বেশি শব্দ করা বা ধোঁয়া ছড়ানো পটকা ব্যবহার করেন, তাঁর বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করা হবে।”

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শহরবাসীর প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকেই বলেছেন, দূষণ রোধে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। বিশেষ করে শিশুরা ও বয়স্কদের জন্য এটি স্বস্তির খবর। তবে কিছু মানুষ মনে করছেন, উৎসবের দিনে এত নিয়মে আনন্দের আবহ কিছুটা ম্লান হয়ে যাবে।

টালিগঞ্জের বাসিন্দা সৌরভ দত্ত বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে পটকা ফাটিয়ে আনন্দ করেছি, কিন্তু এখন দেখি বায়ু কতটা খারাপ হচ্ছে। তাই পুলিশ যদি সময় বেঁধে দেয়, সেটা ভালো উদ্যোগ।”

অন্যদিকে, বেহালার এক দোকানদার বললেন, “সময় বেঁধে দেওয়ায় বিক্রি কিছুটা কমে যাবে, তবে যদি সব দোকানে একই নিয়ম চলে, তাহলে সমস্যা হবে না।”

সামাজিক বার্তা

পুলিশ প্রশাসনের তরফে এবার বিশেষ সচেতনতা প্রচারও শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া, পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে পটকা ফাটানোর নিয়ম, সময়সীমা এবং আইনভঙ্গের ফলাফল।

কলকাতা পুলিশের অফিসিয়াল পেজে পোস্ট করা হয়েছে—

“উৎসব আনন্দের, দূষণের নয়। আপনার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত বাঁচাতে পারে বহু মানুষের শ্বাস। সময় মেনে, নিয়ম মেনে উৎসব করুন।”

শেষ কথা

উৎসব মানেই আনন্দ, আলোর ঝলক, একসঙ্গে সময় কাটানো। কিন্তু এই আনন্দ যদি অন্যের অসুবিধা বা পরিবেশের ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে তার মানে হারিয়ে যায়। তাই পুলিশের এই পদক্ষেপ আসলে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই।

সবুজ পটকা ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময় মেনে পটকা ফাটানো, এবং শব্দসীমা মেনে চলা—এই কয়েকটি সহজ নিয়ম মানলেই আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ, স্বাস্থ্যকর এবং সুন্দর উৎসব উপভোগ করতে পারব।

আসুন, আমরা সবাই মিলে একটুকরো সচেতনতা দিয়ে আলোকিত করি আমাদের শহরকে—শব্দ নয়, আলোয় ভরে উঠুক উৎসবের রাত।

এটাও দেখুন

👉 কলকাতার আজকের আবহাওয়া ও বায়ু গুণমান নিয়ে উদ্বেগ — দূষণের ছায়ায় মহানগর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *