কলকাতায় মনসুন ঋতুর বিদায়: 23% বেশি বৃষ্টি, শহর প্রস্তুত হচ্ছে শীতের জন্য

কলকাতায় মনসুন ঋতুর বিদায়: 23% বেশি বৃষ্টি, শহর প্রস্তুত হচ্ছে শীতের জন্য

Spread the love

কলকাতায় মনসুন ঋতুর বিদায়: 23% বেশি বৃষ্টি, শহর প্রস্তুত হচ্ছে শীতের জন্য

কলকাতায় মনসুন ঋতুর বিদায়: 23% বেশি বৃষ্টি, শহর প্রস্তুত হচ্ছে শীতের জন্য

সম্প্রতি কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে মনসুন ঋতুর বিদায় ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর শহরে মনসুনের কার্যক্রম ছিল তুলনামূলকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ। দুই মাসের মধ্যে কলকাতায় গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা এই অতিবৃষ্টির কারণে ভেসে গেছে, কোথাও কোথাও পানি জমে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে শহরের মানুষ এই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতকে স্বাগত জানিয়েছে কারণ এটি বহুদিন ধরে চলছে শুকনো আবহাওয়া এবং পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী ছিল।

মনসুন ঋতুর বৈশিষ্ট্য

কলকাতায় মনসুন সাধারণত জুন মাসে আসে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকে। এই সময়ে গরমের উত্তাপ কমে আসে, বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। তবে এই বছর মনসুন ছিল অনিয়মিত। জুনের শুরুতে হালকা বৃষ্টি হলেও জুলাই ও আগস্টে বেশিরভাগ সময়ে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত এই দুই মাসে শহরের বিভিন্ন নদী, খাল ও জলাশয়ে পানি স্তর বেড়েছে।

বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান

আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতায় এ বছর জুলাই এবং আগস্ট মাসে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় ৪০০ মিলিমিটার, যা গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় ২৩% বেশি। বিশেষত দক্ষিণ ও উত্তর কলকাতার বিভিন্ন অংশে পানি জমে যানজট তৈরি করেছে। নগর কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছে।

শহরের প্রভাব

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কলকাতার দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়েছে।

  • যানজট: শহরের ব্যস্ত সড়কগুলিতে জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়েছে। commuters এর জন্য সময়মতো পৌঁছানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কিছু বিদ্যালয় ও কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, বিশেষ করে জলাবদ্ধ এলাকার জন্য।

  • স্বাস্থ্য সমস্যা: এই অতিবৃষ্টির কারণে সংক্রমণ ও জলজ সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে।

তবে ইতিবাচক দিকও আছে। বৃষ্টি নদী, খাল এবং জলাশয়ে পানি সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে। এতে আগামী শীতকালে পানির অভাবের সম্ভাবনা কমেছে।

পরিবেশ ও কৃষি

কলকাতায় মনসুন ঋতুর বিদায়: 23% বেশি বৃষ্টি, শহর প্রস্তুত হচ্ছে শীতের জন্য

কলকাতার পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকরা এই অতিবৃষ্টির জন্য কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। চারা রোপণ ও ফসলের জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ হয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, অতিবৃষ্টির ফলে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে এবং বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানুষ ও জীবজগতের জন্য উপকারী।

নগর কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি

কলকাতা পৌরসভা এবং শহরের কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই অতিবৃষ্টির প্রভাব কমানোর জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশন এবং জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। এছাড়া নগরবাসীর জন্য জরুরি নম্বর এবং হেল্পলাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সেবা পাওয়া যায়।

শীতের আগমনী বার্তা

মনসুনের বিদায় মানে শহরে শীতকাল আসার প্রস্তুতি শুরু। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বাতাসে ঠান্ডা ভাব শুরু হয় এবং অক্টোবর নাগাদ পুরো শহর শীতের আছড়ে পড়া অনুভব করে। কলকাতার মানুষ শীতকে ভালোবাসে। ছাদে বা খোলা আকাশের নিচে সকালের চা, সন্ধ্যায় হালকা হাওয়ায় ঘুরে বেড়ানো — সবকিছুই শীতের আনন্দ।

এবারের মনসুন বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের মানুষ শীতকালকে স্বাগত জানাচ্ছে। বিদায়ের সময়ে এমন বৃষ্টি শহরের ল্যান্ডস্কেপকে সুন্দর করেছে। গাছপালা সবুজাভ হয়েছে, নদী ও খালগুলো জলধারায় পূর্ণ হয়েছে। এছাড়া পানির স্তর বৃদ্ধি হওয়ায় শীতকালেও পানির সমস্যা কম হবে।

নাগরিকদের অভিজ্ঞতা

শহরের মানুষও বৃষ্টিপাতের এই অতিরিক্ত পরিমাণে নানা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কেউ কেউ আনন্দিত হয়েছেন, কেউবা অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

  • “বৃষ্টি যেমন অনেক হয়েছে, তেমনই আমাদের রাস্তা পরিষ্কার করার কাজে অনেক জটিলতা হয়েছে। তবে গাছপালা সবুজ দেখার জন্য ভালো লাগছে,” বললেন দক্ষিণ কলকাতার এক বাসিন্দা।

  • “দুই মাসের মধ্যে এত বেশি বৃষ্টি আশা করিনি। কিছুটা সমস্যা হলেও পরিবেশ ভালো হয়েছে,” মন্তব্য করলেন উত্তর কলকাতার এক বয়স্ক ব্যক্তি।

সাম্প্রতিক আবহাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে, কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টি অনেকটাই কমবে। মূলত শীতের আগমনী প্রস্তুতি হবে। দিনের তাপমাত্রা ২৭–৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ২৩–২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। বাতাস পরিষ্কার হবে এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত হবে।

উপসংহার

কলকাতায় এই বছর মনসুন ঋতুর বিদায় প্রমাণ করেছে যে, প্রকৃতির নিয়মিত পরিবর্তন আমাদের জীবনকে কতটা প্রভাবিত করে। অতিবৃষ্টির ফলে শহরে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তবে পরিবেশ, কৃষি এবং পানির সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। শহরের নাগরিকরা এই বিদায়কে স্বাগত জানাচ্ছে এবং শীতকালকে উপভোগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শীতের আগমনের সাথে শহর আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে। ছাদে চা-সঙ্গ, সন্ধ্যায় হালকা হাওয়ায় হাঁটা, নদীর ধারে শীতের স্বাদ — সবকিছুই কলকাতার মানুষকে আনন্দিত করবে। এভাবেই শহর নতুন ঋতুর জন্য নিজেকে সাজাচ্ছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং নাগরিক জীবনের সমন্বয় রেখে।

Read More:

👉 শিক্ষা বোর্ডের সতর্কতা: নির্বাচনী পরীক্ষায় বিতর্কিত বিষয় এড়াতে স্কুলগুলিকে নির্দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *