একদিনে রেকর্ড যাত্রী কলকাতা মেট্রোয় গ্রীন লাইনে ৮০ হাজারের যাত্রা – ব্লু লাইনে আয় কোটি টাকা পেরোল

একদিনে রেকর্ড যাত্রী কলকাতা মেট্রোয় গ্রীন লাইনে ৮০ হাজারের যাত্রা – ব্লু লাইনে আয় কোটি টাকা পেরোল

Spread the love

একদিনে রেকর্ড যাত্রী কলকাতা মেট্রোয় গ্রীন লাইনে ৮০ হাজারের যাত্রা – ব্লু লাইনে আয় কোটি টাকা পেরোল

একদিনে রেকর্ড যাত্রী কলকাতা মেট্রোয় গ্রীন লাইনে ৮০ হাজারের যাত্রা – ব্লু লাইনে আয় কোটি টাকা পেরোল

কলকাতা মেট্রো এখন শুধু শহরের যানবাহনের মাধ্যম নয়, বরং শহরের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ অফিস, স্কুল, কলেজ বা নিত্যদিনের কাজে মেট্রো ব্যবহার করেন। সম্প্রতি নতুন সংযোগ চালু হওয়ার পর একেবারে চোখে পড়ার মতোভাবে বেড়েছে যাত্রী সংখ্যা। মাত্র একদিনে প্রায় ১ লক্ষ বেশি মানুষ মেট্রো ধরেছেন। তার মধ্যে গ্রীন লাইনেই উঠেছে প্রায় ৮০ হাজার যাত্রী। অন্যদিকে শহরের প্রাচীন ব্লু লাইন যাত্রী এবং আয়ের দিক থেকে রেকর্ড গড়েছে—একদিনেই আয় ছাড়িয়েছে ১ কোটি টাকা।

এখন প্রশ্ন, কীভাবে এই হঠাৎ যাত্রী বৃদ্ধির ঘটনা ঘটল? শহরের পরিবহন মানচিত্রে মেট্রোর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে? এই সব বিষয় নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

কলকাতা মেট্রোর বিস্তার: ধাপে ধাপে নতুন সংযোগের পথে

কলকাতা মেট্রো ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেল পরিষেবা। ১৯৮৪ সালে প্রথম চালু হয়েছিল এই পরিষেবা। সেই সময় মাত্র ৩.৪ কিলোমিটার পথেই চলাচল শুরু হয়েছিল। ধীরে ধীরে এই মেট্রো ছড়িয়ে পড়েছে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, আবার পূর্ব থেকে পশ্চিম।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেট্রোর কাজ একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়েছে। নতুন নতুন লাইন যুক্ত হওয়ার ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত একে অপরের সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত হচ্ছে। এই মুহূর্তে কলকাতায় তিনটি বড় রুট চালু আছে—

  1. ব্লু লাইন (উত্তর-দক্ষিণ করিডর): ডুমডুম থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত বিস্তৃত এই লাইনই শহরের পুরনো এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মেট্রো রুট।

  2. গ্রীন লাইন (ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো): সেক্টর-৫ থেকে হাওড়া পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার কথা। এর অনেকটা অংশ চালু হয়ে গেছে। বিশেষ করে হাওড়া মেট্রো চালু হওয়ায় যাত্রীসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।

  3. পার্পল লাইন (জোকা-তারাতলা এবং আরও দূর): এরও কিছু অংশ চালু হয়েছে।

এই সংযোগগুলি যত বাড়ছে, যাত্রীদের ভরসা ও নির্ভরতা তত বাড়ছে।

একদিনে ১ লক্ষ যাত্রী বৃদ্ধি: কোথা থেকে এলো এত ভিড়?

মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন সংযোগ চালু হওয়ার ঠিক পরদিনই প্রায় ১ লক্ষ বেশি যাত্রী চড়েছেন। সাধারণত কলকাতা মেট্রোতে গড়ে ৬-৬.৫ লক্ষ যাত্রী ওঠানামা করেন। কিন্তু নতুন সংযোগ চালুর পর যাত্রী সংখ্যা ৭.৫ লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

এর বড় অংশই এসেছে গ্রীন লাইন থেকে। বিশেষ করে হাওড়া, মহাকরণ, এসপ্ল্যানেড প্রভৃতি নতুন স্টেশন খোলার ফলে হাজার হাজার অফিসযাত্রী সরাসরি এই লাইন ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। শুধু হাওড়া স্টেশন দিয়েই প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ মেট্রো ধরছেন, কারণ এখান থেকেই জুড়ে গেছে ভারতবর্ষের অন্যতম ব্যস্ততম রেলওয়ে জংশন।

গ্রীন লাইন: একাই টানল ৮০ হাজার যাত্রী

গ্রীন লাইন বা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো এখন কলকাতার যাতায়াতের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে সল্টলেক থেকে হাওড়া পৌঁছাতে সময় লাগত এক থেকে দেড় ঘণ্টা, সেখানে এখন মেট্রোয় বসে পৌঁছে যাওয়া যায় মাত্র ২০-২৫ মিনিটে। এই সময় বাঁচানোই যাত্রী বৃদ্ধির মূল কারণ।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংযোগ চালুর পরদিন গ্রীন লাইনেই ওঠানামা করেছেন প্রায় ৮০ হাজার যাত্রী। অফিস টাইমে এই ভিড় একেবারে চোখে পড়ার মতো। সকালে হাওড়া থেকে শহরের কেন্দ্র ও সল্টলেকগামী ভিড় যেমন থাকে, ঠিক তেমনি সন্ধ্যায় উলটো দিকে ভিড় দেখা যায়।

ব্লু লাইন: আয় ছাড়াল ১ কোটি টাকা

যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও কলকাতা মেট্রোর অর্থনৈতিক দিকও সমানভাবে উন্নতি করছে। ব্লু লাইন বা উত্তর-দক্ষিণ করিডর বরাবরই যাত্রী বেশি টানে। কিন্তু এবার একদিনেই এই লাইনের আয় ছাড়িয়েছে ১ কোটি টাকা।

এই আয়ের মূল উৎস টিকিট বিক্রি এবং স্মার্টকার্ড রিচার্জ। ব্লু লাইন যেহেতু শহরের সবচেয়ে পুরনো এবং ব্যস্ততম রুট, তাই এখানকার আয় সর্বদাই বেশি থাকে। তবে এবার যে সংখ্যাটা ১ কোটি ছাড়িয়েছে, তা কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে ধরা হচ্ছে।

যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া: স্বস্তি, আনন্দ ও কিছু অসুবিধাও

নতুন সংযোগ চালু হওয়ার পর সাধারণ যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বহু অফিসযাত্রী জানাচ্ছেন, তাঁদের প্রতিদিনের যাতায়াতের সময় প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। আগে যেখানে গাড়ির জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটত, সেখানে এখন নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যাচ্ছে।

তবে কিছু সমস্যার কথাও সামনে এসেছে—

  • অনেক স্টেশনে এখনও পর্যাপ্ত এস্কেলেটর বা লিফট চালু হয়নি।

  • ভিড় সামলাতে বাড়তি ট্রেনের প্রয়োজন।

  • গ্রীন লাইনের সঙ্গে অন্যান্য রুটের সংযোগ আরও বাড়ানো দরকার।

যাত্রীদের আশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যাগুলি সমাধান করবে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ: কেন বাড়ছে মেট্রোর উপর নির্ভরতা

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা মেট্রো এখন শহরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সময় বাঁচানো পরিবহন। একদিকে যখন সড়কে গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, যানজট বাড়ছে, তেলের দাম বাড়ছে—তখন মেট্রোই সাধারণ মানুষের কাছে একমাত্র ভরসা।

এছাড়া, কলকাতার জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রীভবনের কারণে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করেন। এই চাহিদা পূরণে মেট্রোই একমাত্র কার্যকর মাধ্যম।

একদিনে রেকর্ড যাত্রী কলকাতা মেট্রোয় গ্রীন লাইনে ৮০ হাজারের যাত্রা – ব্লু লাইনে আয় কোটি টাকা পেরোল

অর্থনৈতিক প্রভাব: আয়ের নতুন দিগন্ত

একদিনে রেকর্ড যাত্রী কলকাতা মেট্রোয় গ্রীন লাইনে ৮০ হাজারের যাত্রা – ব্লু লাইনে আয় কোটি টাকা পেরোল

কলকাতা মেট্রোর আয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। টিকিট বিক্রি ছাড়াও বিজ্ঞাপন, ভাড়াকরণ ইত্যাদি থেকেও আয় বাড়ছে। গ্রীন লাইনের নতুন সংযোগ খোলার ফলে ভবিষ্যতে আয় আরও অনেকগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্লু লাইনে ১ কোটি টাকার আয় রেকর্ড হলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ মেট্রোর ভরসায় শহরবাসীর নির্ভরতা দিন দিন দ্বিগুণ হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: আরও সংযোগ, আরও সুবিধা

মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কলকাতাকে জুড়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

  • ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো পুরোপুরি চালু হলে হাওড়া থেকে সল্টলেক যাওয়া আরও সহজ হবে।

  • জোকা-তারাতলা লাইন ধাপে ধাপে দক্ষিণ কলকাতাকে জুড়বে।

  • নিউ গড়িয়া থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সংযোগ চালু হলে শহরের পরিবহন মানচিত্র একেবারে পাল্টে যাবে।

এই সব সংযোগ একত্রে কলকাতাকে দেবে এক আন্তর্জাতিক মানের পরিবহন ব্যবস্থা।

FAQ

প্রশ্ন ১: কলকাতা মেট্রোর একদিনে যাত্রী কতটা বেড়েছে?
উত্তর: নতুন সংযোগ চালু হওয়ার পর একদিনে প্রায় ১ লক্ষ বেশি যাত্রী মেট্রোতে উঠেছেন।

প্রশ্ন ২: গ্রীন লাইন বা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোতে কতজন যাত্রী উঠেছেন?
উত্তর: গ্রীন লাইনে একদিনেই প্রায় ৮০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন।

প্রশ্ন ৩: ব্লু লাইন মেট্রোর আয় কত হয়েছে?
উত্তর: ব্লু লাইন বা উত্তর-দক্ষিণ করিডরে একদিনে আয় ১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

প্রশ্ন ৪: কেন হঠাৎ যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে কলকাতা মেট্রোতে?
উত্তর: নতুন সংযোগ, সময় বাঁচানো এবং যানজট এড়ানোর কারণে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

প্রশ্ন ৫: ভবিষ্যতে কলকাতা মেট্রোর কোন নতুন লাইন আসছে?
উত্তর: জোকা-তারাতলা লাইন, নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক চালু হবে।

উপসংহার

একদিনে ১ লক্ষ যাত্রী বৃদ্ধি, গ্রীন লাইনে ৮০ হাজার যাত্রী, আর ব্লু লাইনের আয় ১ কোটি টাকা ছাড়ানো—এই তিনটি ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে কলকাতা মেট্রো এখন শহরের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিনের জীবনযাত্রা থেকে অর্থনীতি—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে গেছে এই পরিষেবা।

যাত্রীরা যেমন মেট্রোর সুবিধা পাচ্ছেন, তেমনই শহরের সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাও স্বস্তির মুখ দেখছে। যদিও এখনও অনেক কাজ বাকি—সংযোগ বাড়ানো, ভিড় সামলানো, আধুনিক পরিষেবা দেওয়া। তবু আজকের পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট, কলকাতা মেট্রো আগামী দিনে শহরের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে।

এটাও দেখুন

👉 নতুন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ফের আশার আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *