কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ: রাজ্য পরিবেশ বোর্ডকে ফাটাক-পটাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ: রাজ্য পরিবেশ বোর্ডকে ফাটাক-পটাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ

Spread the love

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ: রাজ্য পরিবেশ বোর্ডকে ফাটাক-পটাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ: রাজ্য পরিবেশ বোর্ডকে ফাটাক-পটাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ

কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি রাজ্য পরিবেশ বোর্ডকে ফাটাক-পটাকা বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফাটাক-পটাকার অবাধ ব্যবহার ঠেকাতে হবে। বিশেষ করে দুর্গাপূজা ও অন্যান্য উৎসবের সময় ফাটাক-পটাকার শব্দ ও বায়ুদূষণ মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের স্বাস্থ্য রক্ষা, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বায়ুদূষণ কমানো। আদালত উল্লেখ করেছে, ফাটাক-পটাকার উৎপাদন ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ না করলে, পরিবেশগত এবং সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হবে।

কেন ফাটাক-পটাকা নিয়ন্ত্রণ জরুরি?

ফাটাক-পটাকার কারণে শহরে বায়ুদূষণ বাড়ে। বিশেষ করে পার্টিকুলেট মান (PM2.5 এবং PM10) বেড়ে গেলে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া, ফাটাকের শব্দ কানে ক্ষতি, মানসিক চাপ এবং ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধরা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন।

রাজ্য পরিবেশ বোর্ডের ভূমিকা

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য পরিবেশ বোর্ডকে কেবল ফাটাক বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে না, বরং ব্যবহারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  1. অনুমোদিত দোকান ও স্থানে ফাটাক বিক্রি করা।

  2. নির্দিষ্ট সময় ও স্থান ছাড়া ফাটাক বিস্ফোরণ প্রতিরোধ করা।

  3. কিশোর ও শিশুদের ফাটাক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখা।

  4. সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে নিয়মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

দুর্গাপূজায় নিয়মাবলী

প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় ফাটাক ব্যবহার বেড়ে যায়। হাইকোর্টের নির্দেশে, পুলিশ ও পরিবেশ বোর্ডকে যৌথভাবে নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। সঠিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, দুর্গাপূজা উৎসবের আনন্দ ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

ফাটাকের বিক্রেতাদের জন্য সতর্কবার্তা

হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বেআইনি ফাটাক বিক্রি করা বা অনুমোদিত সময়ের বাইরে ফাটাক বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্য পরিবেশ বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নিয়মিত দোকানগুলি পর্যবেক্ষণ করে, এবং প্রয়োজনে জরিমানা বা দোকান বন্ধের ব্যবস্থা নেয়।

নাগরিকদের দায়িত্ব

শুধুমাত্র প্রশাসন নয়, নাগরিকদেরও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নাগরিকরা:

  • বেআইনি ফাটাক কিনবেন না।

  • নির্ধারিত সময় ও স্থানে ফাটাক ব্যবহার করবেন।

  • শিশুদের ফাটাক থেকে দূরে রাখবেন।

  • প্রতিবেশীদের শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবেন।

সচেতনতা কার্যক্রম

রাজ্য পরিবেশ বোর্ডকে বলা হয়েছে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে। স্কুল, কলেজ, এবং কমিউনিটি সেন্টারে সচেতনতামূলক কর্মশালা করা হবে। মানুষকে বোঝানো হবে যে, সঠিক নিয়ম মেনে ফাটাক ব্যবহার করলে উৎসব আনন্দদায়ক ও নিরাপদ হবে।

পরিবেশগত সুবিধা

ফাটাক নিয়ন্ত্রণে রাখলে শহরের বায়ুদূষণ কমবে। এটা শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমাবে। এছাড়া, শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত প্রাণীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ: রাজ্য পরিবেশ বোর্ডকে ফাটাক-পটাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ

কোর্ট উল্লেখ করেছে যে, উৎসবের আনন্দ কখনও পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে চলবে না। তাই প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ফাটাক-বিক্রেতা, ব্যবহারকারী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ম মানার জন্য দায়িত্ববান হতে হবে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

রাজ্য পরিবেশ বোর্ডের সঙ্গে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা:

  • ফাটাক বিক্রয় ও ব্যবহারের নিয়মাবলী সর্বজনীনভাবে প্রচার করবে।

  • শহরের বিভিন্ন অংশে পর্যবেক্ষণ চালাবে।

  • নিয়ম লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কঠোরভাবে শাস্তি দেবে।

সমাপ্তি

হাইকোর্টের এই নির্দেশ রাজ্যবাসীর জন্য আশার বার্তা। এটি নিশ্চিত করবে যে, উৎসবের আনন্দের সঙ্গে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শান্তি বজায় থাকবে। নাগরিকদের উচিত এই নিয়ম মেনে চলা এবং একে অন্যকে সচেতন করা।

ফলে, কলকাতার নাগরিকরা দুর্গাপূজা ও অন্যান্য উৎসব আনন্দময়ভাবে উপভোগ করতে পারবে, কিন্তু পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।

FAQ

প্রশ্ন ১: ফাটাক নিয়ন্ত্রণের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: ফাটাক বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ এবং স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ, তাই নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

প্রশ্ন ২: রাজ্য পরিবেশ বোর্ড কীভাবে ফাটাক নিয়ন্ত্রণ করবে?
উত্তর: বিক্রয় ও ব্যবহারের নিয়মাবলী জারি করা, নজরদারি চালানো এবং বেআইনি কার্যক্রম রোধ করা।

প্রশ্ন ৩: নাগরিকদের ভূমিকা কী?
উত্তর: বেআইনি ফাটাক না কেনা, নির্ধারিত সময়ে ব্যবহার করা এবং শিশুদের নিরাপদে রাখা।

প্রশ্ন ৪: হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানা বা শাস্তি কবে প্রযোজ্য?
উত্তর: বেআইনি বিক্রয় বা অনুমোদিত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন ৫: ফাটাক নিয়ন্ত্রণে রাখা কতটা কার্যকর?
উত্তর: এটি শহরের বায়ুদূষণ কমাতে, স্বাস্থ্য রক্ষা করতে এবং শান্তিপূর্ণ উৎসব নিশ্চিত করতে সহায়ক।

এটাও দেখুন

👉 ইডির হানা: অবৈধ বালু খননের সংক্রান্ত অভিযানে ২২টি স্থানে তল্লাশি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *