কেন 5ই সেপ্টেম্বর এতটা বিশেষ? জানুন বিস্তারিত

ভূমিকা
আমাদের জীবনে কিছু কিছু দিন চিরকাল আলাদা গুরুত্ব বহন করে। যেমন স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, দুর্গাপূজা বা ঈদের দিন। কিন্তু এর পাশাপাশি এমন একটি দিন আছে যেটি দেশের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর কাছে স্মরণীয় – সেটি হলো ৫ই সেপ্টেম্বর। এদিনটিকে আমরা শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করি। তবে, শুধু শিক্ষক দিবস বললে এর মাহাত্ম্য কমে যায়। এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতীয় শিক্ষা ইতিহাস, এক মহান দার্শনিক, রাষ্ট্রপতি এবং শিক্ষাবিদের নাম – ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ।
আজ আমরা বিস্তারিতভাবে জানব –
-
কেন ৫ই সেপ্টেম্বর এতটা গুরুত্বপূর্ণ,
-
এই দিনের পেছনের ইতিহাস কী,
-
শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য কতটা,
-
বর্তমান সময়ে এর মূল্য কীভাবে দেখা যায়,
-
আর আমাদের সমাজে শিক্ষকদের ভূমিকা কেন এখনও অনন্য।
৫ই সেপ্টেম্বরের ইতিহাস
১৯৬২ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর ছিল ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন। তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অসাধারণ শিক্ষক, দার্শনিক ও চিন্তাবিদ। তাঁর জীবনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দেওয়া এবং জ্ঞানকে সমাজের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া।
যখন তিনি রাষ্ট্রপতি হলেন, তাঁর কিছু ছাত্র ও অনুরাগীরা তাঁর জন্মদিন পালনের প্রস্তাব রাখেন। কিন্তু তিনি বলেছিলেন –
“আমার জন্মদিনকে যদি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়, তবে আমি সত্যিই গর্বিত বোধ করব।”
সেই থেকে ভারতবর্ষে প্রতি বছর ৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ কে ছিলেন?
-
জন্ম: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৮৮ সালে, তামিলনাড়ুর তিরুত্তানি এলাকায়।
-
তিনি দর্শনশাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং ভারতীয় দর্শনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন।
-
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছিলেন।
-
১৯৫২ সালে তিনি ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৬২ সালে রাষ্ট্রপতির পদে বসেন।
-
ভারত সরকারের তরফে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মান দেওয়া হয়।
তাঁর চিন্তাধারা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল।
শিক্ষক দিবস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
শিক্ষক শুধু একজন মানুষ নয় যিনি ক্লাসে পড়ান। শিক্ষক হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের পথ দেখান। তিনি শুধু বইয়ের জ্ঞান দেন না, তিনি শেখান কিভাবে জীবনে বড় হতে হয়, কিভাবে নৈতিকতা বজায় রাখতে হয় এবং সমাজের জন্য একজন সৎ মানুষ হওয়া যায়।
শিক্ষক দিবসের গুরুত্ব বোঝাতে গেলে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরা যায় –
-
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ – এই দিনে ছাত্রছাত্রীরা তাদের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
-
শিক্ষকের ভূমিকা স্মরণ – সমাজে শিক্ষকরা যে ভূমিকা রাখেন, সেটি এই দিনে আবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়।
-
অনুপ্রেরণা পাওয়া – ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করতে শেখে।
-
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সচেতনতা – এই দিনটি আমাদের মনে করায় যে শিক্ষা ছাড়া সমাজ উন্নত হতে পারে না।
স্কুল-কলেজে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান
কেন 5ই সেপ্টেম্বর এতটা বিশেষ? জানুন বিস্তারিত
শিক্ষক দিবস মানেই স্কুল-কলেজে আনন্দ-উৎসবের আবহ। সাধারণত এই দিন ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের সম্মান জানাতে বিশেষ আয়োজন করে থাকে।
-
ছাত্ররা শিক্ষক সেজে ক্লাস নেয়।
-
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি হয়।
-
শিক্ষকদের উপহার দেওয়া হয়, যেমন শুভেচ্ছা কার্ড, ফুল বা বই।
-
কখনও কখনও প্রাক্তন ছাত্ররাও তাদের শিক্ষকদের শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন।
এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।
কেন শিক্ষক সমাজের স্তম্ভ?
একটি ভালো সমাজ গড়ে ওঠে সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে। আর এই শিক্ষা দেন শিক্ষকরা।
-
একজন ডাক্তার মানুষের জীবন বাঁচান।
-
একজন ইঞ্জিনিয়ার সমাজ গড়ে তোলেন।
-
একজন বিজ্ঞানী নতুন আবিষ্কার করেন।
কিন্তু এরা সবাই আগে একজন শিক্ষকের কাছে পড়েছেন। তাই বলা হয়, শিক্ষক ছাড়া কোনও মানুষ সফল হতে পারে না।
শিক্ষকরা শুধু জ্ঞানই দেন না, তারা শেখান কিভাবে ভালো মানুষ হওয়া যায়।

বর্তমান সময়ে শিক্ষক দিবসের গুরুত্ব
আগে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক ছিল অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ। এখন প্রযুক্তি ও ডিজিটালের যুগে ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন ক্লাস, ইউটিউব, গুগল থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। কিন্তু তারপরও একজন শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম।
কেননা –
-
প্রযুক্তি তথ্য দিতে পারে, কিন্তু অনুপ্রেরণা দিতে পারে না।
-
বই থেকে জ্ঞান পাওয়া যায়, কিন্তু জীবনবোধ শেখায় শিক্ষক।
-
ইন্টারনেট প্রশ্নের উত্তর দেয়, কিন্তু শিক্ষক শেখান সঠিক প্রশ্ন করতে।
তাই শিক্ষক দিবস এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং আগামী দিনগুলোতেও থাকবে।
৫ই সেপ্টেম্বর শুধুই শিক্ষক দিবস নয়
অনেকেই ভাবেন ৫ই সেপ্টেম্বর মানেই শিক্ষক দিবস। কিন্তু আসলে এই দিনে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেছে ইতিহাসে।
-
এই দিনেই জন্মেছেন আরও কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
-
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনে নানা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে।
তবে ভারতে সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো – এটি শিক্ষক দিবস।
আমাদের দায়িত্ব
শিক্ষক দিবস কেবল ৫ই সেপ্টেম্বরেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সারা বছর শিক্ষকদের সম্মান করা উচিত। ছাত্রছাত্রী হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ব হলো –
-
শিক্ষকের কথা মন দিয়ে শোনা।
-
নিয়ম মেনে চলা।
-
তাদের শেখানো বিষয় জীবনে প্রয়োগ করা।
-
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা রাখা।
কারণ, শিক্ষক ছাড়া ছাত্রের ভবিষ্যৎ অসম্পূর্ণ।
উপসংহার
৫ই সেপ্টেম্বর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একজন শিক্ষক কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। তাই এই দিনটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আমাদের কাছে এটি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা জানানোর দিন।
এটাও দেখুন
👉WBJEE 2025-এর নিম্ন র্যাঙ্কে সবচেয়ে ভালো বেসরকারি কলেজ কোন গুলো?
