Form 6 কী?
Form 6 (ফর্ম–৬) হলো সেই ফর্ম যার মাধ্যমে নতুন ভোটাররা প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন।
এছাড়া যারা অন্য আসন বা এলাকার ভোটার তালিকায় স্থানান্তর করতে চান, তারাও Form 6 ব্যবহার করেন।

Form 6 জমা দেওয়ার দুটি উপায়
আপনি দুটি উপায়ে Form 6 পূরণ করে জমা দিতে পারেন —
1️⃣ অনলাইনে (Online Method)
2️⃣ অফলাইনে (Offline Method)
১. অনলাইনে Form 6 পূরণ করার নিয়ম (NVSP বা Voter Portal)
🔹 ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান
👉 ওয়েবসাইট: https://www.nvsp.in
অথবা
👉 নতুন ভোটার পোর্টাল: https://voters.eci.gov.in
ধাপ ২: লগইন / রেজিস্টার করুন
-
যদি আপনার আগে অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে লগইন (Login) করুন।
-
নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য “Create an account” ক্লিক করে নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি দিয়ে নতুন আইডি তৈরি করুন।
ধাপ ৩: “Form 6 – Register as a New Voter” অপশন বাছাই করুন
-
লগইন করার পর হোম পেজে “Apply for New Voter ID (Form 6)” এ ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: আপনার তথ্য পূরণ করুন
এখানে আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হবে —
(A) ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Details):
-
নাম (বাংলা ও ইংরেজিতে)
-
পিতার/মাতার নাম
-
জন্ম তারিখ (Date of Birth)
-
লিঙ্গ (Gender)
(B) ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য (Address Details):
-
রাজ্য (West Bengal)
-
জেলা (District)
-
বিধানসভা কেন্দ্র (Assembly Constituency)
-
বাড়ির নাম / রাস্তাঃ / ওয়ার্ড নং
-
পিন কোড
(C) স্থানান্তর তথ্য (In case of shifting from another area):
যদি আপনি অন্য জায়গা থেকে স্থানান্তর হয়ে আসেন, তবে আগের ভোটার তালিকার বিস্তারিত লিখুন (যেমন পুরনো ঠিকানা, রাজ্য ইত্যাদি)।
ধাপ ৫: নথি (Documents) আপলোড করুন
ফর্মের সঙ্গে কিছু প্রমাণপত্র (Documents) আপলোড করতে হবে।
(A) জন্ম তারিখের প্রমাণ (Proof of Age):
-
জন্ম সনদ (Birth Certificate)
-
দশম শ্রেণির অ্যাডমিট কার্ড / সার্টিফিকেট
-
পাসপোর্ট বা PAN Card
(B) ঠিকানার প্রমাণ (Proof of Residence):
-
আধার কার্ড
-
বিদ্যুৎ / গ্যাস / টেলিফোন বিল
-
রেশন কার্ড
-
ব্যাংক পাসবুক
(C) নিজের পাসপোর্ট সাইজ ফটো
ধাপ ৬: মোবাইল নম্বর / ইমেল আইডি লিংক করুন
-
এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার আইডির সঙ্গে মোবাইল নম্বর বা ইমেল আইডি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
-
একটি OTP আসবে, সেটি দিয়ে যাচাই করুন।
ধাপ ৭: রিভিউ ও সাবমিট
-
সব তথ্য ভালোভাবে চেক করুন।
-
“Submit” ক্লিক করুন।
-
সাবমিট করার পর একটি Reference ID Number পাবেন।
👉 এই নম্বর দিয়ে আপনি আপনার আবেদনটির অবস্থা (Status) ট্র্যাক করতে পারবেন।
২. অফলাইনে Form 6 জমা দেওয়ার নিয়ম
যদি আপনি অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে না চান, তবে অফলাইনে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন।
ধাপ ১: ফর্ম সংগ্রহ করুন
-
আপনার বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বা ব্লক অফিস / পৌরসভা অফিস থেকে Form 6 সংগ্রহ করুন।
-
অথবা https://eci.gov.in থেকে প্রিন্ট করে নিতে পারেন।
ধাপ ২: ফর্ম পূরণ করুন
ফর্মে নিচের অংশগুলো পূরণ করতে হবে —
Part 1 – আবেদনকারীর তথ্য
-
নাম (বাংলা ও ইংরেজিতে)
-
জন্ম তারিখ
-
লিঙ্গ
-
পিতা / মাতা / স্বামী / স্ত্রীর নাম
Part 2 – ঠিকানা
-
সম্পূর্ণ ঠিকানা লিখুন (বাড়ি নম্বর, রাস্তা, ওয়ার্ড, জেলা, রাজ্য ইত্যাদি)।
Part 3 – পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা (যদি থাকে)
যদি আগে অন্য জায়গায় নাম থাকে, সেই ঠিকানা উল্লেখ করুন।
Part 4 – সংযুক্ত নথি
-
জন্ম প্রমাণপত্র
-
ঠিকানা প্রমাণপত্র
-
পাসপোর্ট সাইজ ফটো
ধাপ ৩: BLO-কে জমা দিন
-
পূরণ করা ফর্ম ৬ আপনার এলাকার BLO (Booth Level Officer)-কে হাতে জমা দিন।
-
তিনি ফর্ম যাচাই করে রিসিপ্ট দেবেন।
ধাপ ৪: যাচাই ও নাম অন্তর্ভুক্তি
-
BLO আপনার বাড়িতে গিয়ে যাচাই করবেন।
-
সব ঠিক থাকলে আপনার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পরে ভোটার আইডি কার্ড ইস্যু হবে।
Form 6 জমা দেওয়ার সময়সীমা
-
সাধারণত ভোটার তালিকার বিশেষ পুনঃপরীক্ষণ (SIR) চলাকালীন সময়েই ফর্ম ৬ জমা নেওয়া হয়।
-
তবে অনলাইনে আপনি সারা বছরই আবেদন করতে পারেন।
আবেদন ট্র্যাক করার উপায়
আপনার আবেদন কোথায় পৌঁছেছে জানতে —
👉 ওয়েবসাইটে যান https://www.nvsp.in
👉 “Track Application Status” অপশনে গিয়ে আপনার Reference ID Number দিন।
👉 সেখানে আপনার ফর্মের বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ
-
ফর্মে দেওয়া তথ্য অবশ্যই সঠিক ও যাচাই করা হতে হবে।
-
মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
-
১৮ বছর বয়স পূর্ণ না হলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
-
BLO যদি বাড়ি না আসে, তাহলে নিজে স্থানীয় অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করুন।
Form 6 পূরণের সময় সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন
ভুল জন্ম তারিখ লেখা।
অসম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া।
ফটো বা নথি আপলোড না করা।
মোবাইল নম্বর না দেওয়া।
পুরনো ভোটার তালিকার তথ্য ফাঁকা রাখা।
উপসংহার
Form 6 পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এই ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করলে আপনি সহজেই ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
চেষ্টা করুন ফর্ম জমা দেওয়ার সময় মোবাইল ও ইমেল সংযুক্ত করতে এবং সব তথ্য সততার সঙ্গে পূরণ করতে।
কারণ, একবার সঠিকভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত হলে আপনার ভোটার কার্ড আজীবনের পরিচয়পত্র হিসেবেও কাজে লাগবে।

[…] […]