ইডি হানা: তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জীবান কৃষ্ণ সাহার বাড়িতে চাকরি দুর্নীতি মামলায় তোলপাড় বাংলার রাজনীতি

ইডি হানা: তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জীবান কৃষ্ণ সাহার বাড়িতে চাকরি দুর্নীতি মামলায় তোলপাড় বাংলার রাজনীতি

Spread the love

ইডি হানা: তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জীবান কৃষ্ণ সাহার বাড়িতে চাকরি দুর্নীতি মামলায় তোলপাড় বাংলার রাজনীতি

ইডি হানা: তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জীবান কৃষ্ণ সাহার বাড়িতে চাকরি দুর্নীতি মামলায় তোলপাড় বাংলার রাজনীতি
ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বড়সড় ভূমিকম্প। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জীবান কৃষ্ণ সাহার বাড়িতে হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। শনিবার ভোর থেকেই শিয়ালদহ থেকে শুরু করে কলকাতার রাজনৈতিক মহল জুড়ে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। চারদিক থেকে খবর ছড়িয়ে পড়েছে— “ইডি অফিসাররা প্রবেশ করেছে বিধায়কের বাড়িতে, চলছে তল্লাশি।”

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনীতির মাঠে শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর। শাসক তৃণমূল থেকে বিরোধী বিজেপি—দুই পক্ষেরই বক্তব্যে আগুন ছড়িয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— চাকরির নাম করে রাজ্যে আসলে কী ঘটেছিল? কেন একের পর এক শাসক দলের নেতার বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা হানা দিচ্ছে? https://www.youtube.com/live/ddBUpMEz3Rw?si=-f60d7WSei7fpwn4

কে এই জীবান কৃষ্ণ সাহা?

জীবান কৃষ্ণ সাহা হলেন নদিয়া জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধি। তিনি স্থানীয় মানুষের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন উন্নয়নমূলক কাজ ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য। তবে গত কয়েক বছরে যখন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে, তখন একাধিকবার তাঁর নামও আলোচনায় উঠে আসে।

বিরোধীদের দাবি— “চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ যুবকদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হয়েছে।”
শাসক দল অবশ্য পাল্টা বলে— “এ সব রাজনৈতিক চক্রান্ত, মানুষের নজর ঘোরানোর চেষ্টা।”

পশ্চিমবঙ্গ স্কুল চাকরি কেলেঙ্কারি: সংক্ষেপে পটভূমি

পশ্চিমবঙ্গে কয়েক বছর আগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। হাজার হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় বসেন। কিন্তু শীঘ্রই দেখা যায়, অনেকেই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েও চাকরি পেয়েছেন।

তদন্তে উঠে আসে— পয়সার বিনিময়ে বেআইনি নিয়োগ হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

মেধা তালিকা বদলানো হয়েছে।

অবৈধভাবে নিয়োগপত্র জারি করা হয়েছে।

এই কেলেঙ্কারির সূত্র ধরেই প্রথমে সিবিআই, পরে ইডি তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে।

ইডির অভিযান কেমন চলছে?

ইডি হানা: তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জীবান কৃষ্ণ সাহার বাড়িতে চাকরি দুর্নীতি মামলায় তোলপাড় বাংলার রাজনীতি

শনিবার ভোররাত থেকেই ইডির প্রায় ৫০ জন আধিকারিক জীবান কৃষ্ণ সাহার একাধিক বাড়িতে প্রবেশ করেন। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। এরপর একে একে ঘরে ঘরে তল্লাশি শুরু হয়।

খবর অনুযায়ী—

বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

একাধিক মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।

বাড়িতে থাকা নগদ টাকারও খোঁজখবর চলছে।

ইডির দাবি, “চাকরি কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলতেই এই অভিযান।”

রাজনীতির মাঠে প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য

তৃণমূল নেতারা এই হানাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করছেন। তাঁদের কথায়—

“কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার জনপ্রতিনিধিদের ভয় দেখাতে চাইছে। মানুষ তৃণমূলের পাশে আছে, এই সব হানায় কিছুই প্রমাণ হবে না।”

বিজেপির দাবি

বিজেপির নেতাদের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। তাঁদের দাবি—

“এবার প্রমাণ হচ্ছে, রাজ্যের শাসকদল চাকরি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তুলেছে। ইডি তাদের হাতেনাতে ধরছে।”

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। যাঁরা বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন করছেন, তাঁদের অনেকে বলেন—

“আমাদের জীবন নষ্ট হয়েছে। যারা টাকা দিয়ে চাকরি কিনেছে তারা এখন ধরা পড়ছে। কিন্তু আমাদের কি ন্যায় বিচার মিলবে?”

কেন এত আলোড়ন তৈরি করেছে এই অভিযান?

কারণ খুব স্পষ্ট।

একজন বর্তমান বিধায়কের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ।

রাজ্যের শাসক দলের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা।

চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে।

অতএব, এই হানা শুধু একটি তদন্ত নয়, এটি বাংলার আগামী রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।

আগের ঘটনাগুলি মনে করিয়ে দিই

২০২২ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হন।

তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি নগদ টাকা।

এরপর একাধিক জেলা তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

ধাপে ধাপে ইডি ও সিবিআই তদন্ত এগিয়েছে।

এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন জীবান কৃষ্ণ সাহা।

মানুষের প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি

মানুষ এখন একটাই জিনিস জানতে চাইছে—

আসল দোষীরা কি কখনও সাজা পাবে?

চাকরি কেলেঙ্কারির শিকার হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী কি ন্যায়বিচার পাবে?

দোষীদের টাকা উদ্ধার করে কি সেই প্রার্থীদের ফেরত দেওয়া হবে?

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইডি পর্যাপ্ত প্রমাণ পায় তবে বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হবে। আদালতে শুনানি চলবে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরই আসল রায় জানা যাবে।

তবে রাজনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি এখনই বড় প্রভাব ফেলছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযান বিরোধী দলের হাতে বড় অস্ত্র। শাসক দলের কাছে এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

FAQ

Q1: কেন ইডি তৃণমূল বিধায়ক জীবান কৃষ্ণ সাহার বাড়িতে হানা দিল?
👉 ইডি-র দাবি, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে, সেই কারণেই অভিযান চলছে।

Q2: জীবান কৃষ্ণ সাহা কে?
👉 তিনি নদিয়া জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জনপ্রিয় ছিলেন, তবে সাম্প্রতিককালে চাকরি কেলেঙ্কারির মামলায় তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে।

Q3: এই চাকরি কেলেঙ্কারি আসলে কী?
👉 অভিযোগ অনুযায়ী, হাজার হাজার প্রার্থী টাকা দিয়ে অবৈধভাবে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছেন। মেধাতালিকা বদলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

Q4: আগে আর কারা এই মামলায় ধরা পড়েছে?
👉 প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল।

Q5: সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা এখন কী আশা করছে?
👉 তাঁরা চান প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক এবং যোগ্য প্রার্থীরা ন্যায্য চাকরি ফিরে পাক।

উপসংহার

ইডির এই অভিযান প্রমাণ করে দিচ্ছে যে চাকরি দুর্নীতি কেলেঙ্কারি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল ছিল না, বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত আর্থিক অপরাধ। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম বিধায়ক জীবান কৃষ্ণ সাহার নাম যুক্ত হওয়ায় বাংলার রাজনীতি আরও অস্থির হতে চলেছে।

সাধারণ মানুষের আশা, একদিন সত্য প্রকাশ পাবে এবং যাঁরা টাকার বিনিময়ে অন্যায়ের চাকরি নিয়েছেন তাঁরা শাস্তি পাবেন। আর প্রকৃত যোগ্য ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।

এটাও দেখুন

👉  WBJEE Colleges Predicts Link

👉 দুর্গা পুজোর আগে বড় সেবা : কলকাতা মেট্রোর নতুন যাত্রা : জেনে নিন সবকিছু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *