দিল্লি বিস্ফোরণ সন্ত্রাসবাদী হামলাই! প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত

দিল্লি বিস্ফোরণ সন্ত্রাসবাদী হামলাই! প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত, তদন্তে মিলল বিস্ফোরক তথ্য

Spread the love

দিল্লি বিস্ফোরণ সন্ত্রাসবাদী হামলাই, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠকে কেন্দ্রের সিলমোহর — তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

দিল্লির লালকেল্লার সামনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেই ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়। বৈঠকে নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়।

দিল্লি বিস্ফোরণ সন্ত্রাসবাদী হামলাই! প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত, তদন্তে মিলল বিস্ফোরক তথ্য

প্রধানমন্ত্রী ভুটান সফর থেকে ফিরে প্রথমেই হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ-সহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানেই সোমবারের বিস্ফোরণকে “সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্র” বলে ঘোষণা করা হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে কঠোর পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে মিলল বিস্ফোরক তথ্য

বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে একাধিক সন্দেহভাজনকে। সবচেয়ে আলোচিত নাম চিকিৎসক উমর উন-নবি, যিনি বিস্ফোরিত হুন্ডাই আই২০ গাড়ির চালক ছিলেন বলে সন্দেহ। তাঁর লাল রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট গাড়ি উদ্ধার হয়েছে হরিয়ানার খাণ্ডওয়ালি গ্রাম থেকে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই গাড়িতেই বিস্ফোরক পরিবহন করা হয়েছিল।

দিল্লি বিস্ফোরণ সন্ত্রাসবাদী হামলাই! প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত, তদন্তে মিলল বিস্ফোরক তথ্য

তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—বিস্ফোরণের আগে গাড়িটি ঘুরেছিল দিল্লির ব্যস্ত কনট প্লেস ও ময়ূর বিহার এলাকায়। সূত্রের দাবি, ২৯ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্‌ মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাসে পার্ক করা ছিল সেই গাড়ি। এই মেডিক্যাল কলেজ থেকেই দুই চিকিৎসক—মুজ়াম্মিল আহমেদশাহিন শহিদ–এর যোগ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন :

WBJEE ANM GNM Result 2025 প্রকাশিত! এখনই দেখুন Rank Card ও সরাসরি লিংক wbjeeb.nic.in থেকে

SVMCM স্কলারশিপ শুরু হয়ে গেছে নভেম্বরে , জেনেনিন বিস্তারিত কীভাবে apply করবেন ,কি কি ডকুমেন্ট লাগবে ,আর করা eligible

 

সন্ত্রাসের ‘সাপ্লাই লাইন’ ও কাশ্মীর যোগ

তদন্তে নেমে পুলিশ কাশ্মীরের প্রাক্তন মেডিক্যাল কর্মী ইরফান আহমেদকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তিনিই তরুণ ডাক্তারদের মগজধোলাই করে সন্ত্রাসে নামাচ্ছিলেন। এই নেটওয়ার্কের সূত্রেই ভারতে গড়ে উঠেছিল এক গোপন মেডিক্যাল টেরর মডিউল, যারা হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের নিমগ্রামেও অভিযান চালিয়েছে এনআইএ। এক ঠিকাশ্রমিকের বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে তারা। ধৃতদের ফোন রেকর্ড থেকে মিলেছে যোগাযোগের সূত্র।

মহিলা চিকিৎসক শাহিনের চাঞ্চল্যকর ভূমিকা

বিস্ফোরণ ঘটার ঠিক আগে লখনউ থেকে গ্রেফতার হন মহিলা চিকিৎসক শাহিন সিদ্দীকী। তাঁর গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। জানা গেছে, ২০১৩ সালে তিনি কানপুরের জেএসভিএম মেডিক্যাল কলেজ থেকে আচমকা উধাও হয়ে যান। পরে তাঁকে জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা জামাত-উল-মোমিনীন–এর ভারতীয় প্রধান করা হয়। তাঁর পরামর্শদাতা ছিলেন জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন হামলার ছক ছিল?

তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, মূলত গত ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ধৃতদের ফোন রেকর্ডে সেই সময়ের একাধিক রেকি-ভিডিও ও লোকেশন পাওয়া গেছে।

বিস্ফোরকে মিলল মিলিটারি গ্রেড উপাদান

ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা কার্তুজ ও দুটি ভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক নমুনা উদ্ধার হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরডিএক্স, পিইটিএন বা সেমটেক্স জাতীয় শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও ডিটোনেটরের উপস্থিতিরও ইঙ্গিত মিলেছে।

আরও পড়ুন :

SIR ফর্ম অনলাইনে জমা সম্ভব! জানুন কীভাবে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের ফর্ম পূরণ করবেন অনলাইনে

৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে নয় দুর্নীতি, মাত্র ৩৬০ তে অনিয়ম! হাই কোর্টে বড় দাবি রাজ্যের

 

সরকারের বার্তা

বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন—

“যারা এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের একজনকেও রেহাই দেওয়া হবে না। তদন্ত সংস্থাগুলি ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছবে।”

উপসংহার:

দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা দেশ স্তম্ভিত। এখন পরিষ্কার, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদী হামলা। তদন্তে প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে। সরকারের কড়া অবস্থান এবং গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয়তা দেখে দেশবাসী আশাবাদী—এই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যের সব দোষীদের খুব শিগগিরই বিচারের মুখে দাঁড় করানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *