বর্ধমান মেডিক্যালে 18 দিনের শিশু চুরি মা-বাবার সামনেই অপহরণ জানুন সম্পূর্ণ ঘটনা

বর্ধমান মেডিক্যালে 18 দিনের শিশু চুরি মা-বাবার সামনেই অপহরণ জানুন সম্পূর্ণ ঘটনা

Spread the love

বর্ধমান মেডিক্যালে 18 দিনের শিশু চুরি মা-বাবার সামনেই অপহরণ জানুন সম্পূর্ণ ঘটনা

বর্ধমান মেডিক্যালে 18 দিনের শিশু চুরি মা-বাবার সামনেই অপহরণ জানুন সম্পূর্ণ ঘটনা

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আজ এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১৮ দিনের একটি শিশুকে হাসপাতালের আউটডোর থেকে চুরি করে নিয়ে গেছে এক অচেনা মহিলা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ঘটনা ঘটেছে শিশুটির মা-বাবার চোখের সামনেই। যেখানে আমরা মনে করি হাসপাতাল একটি নিরাপদ জায়গা, সেখানেই এমন ঘটনা ঘটায় সবাই স্তম্ভিত।

ঘটনার বিবরণ

শিশুটির নাম জানা যায়নি এখনও। তবে জানা গেছে, শিশুটির বয়স মাত্র ১৮ দিন। তার মা সেলেফা খাতুন সেদিন তার ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের আউটডোর শিশু বিভাগে এসেছিলেন। ছোট্ট শিশুটির কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল, তাই ডাক্তার দেখানোর জন্য মা তাকে নিয়ে আসেন। বাবা সুজল সেখ তখন হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন।

সেলেফা খাতুন তার শিশুকে কোলে নিয়ে ডাক্তারের ক্যাবিনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। হাসপাতালে রোগীর ভিড় থাকাটাই স্বাভাবিক। এরই মধ্যে একজন মহিলা এসে সেলেফার সাথে গল্প করতে শুরু করেন। মহিলাটি খুবই সহানুভূতিশীল এবং আন্তরিক ছিলেন দেখতে। তিনি শিশুটিকে দেখে নাকি খুব আদর করছিলেন। বলছিলেন, “কী সুন্দর বাচ্চা! আমাকে একটু কোলে দাও না।”

যেকোনো মা-ই জানেন, শিশুকে যখন কেউ আদর করে, তখন ভালোই লাগে। সেলেফাও ভাবলেন, এই মহিলা নিশ্চয়ই কোনো ভালো মানুষ। তাই তিনি নিজের শিশুটিকে সেই অচেনা মহিলার কোলে দিয়ে দিলেন। মহিলাটি শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করতে লাগলেন। তারপর বললেন, “আমি জরা বাইরে থেকে ঘুরে আসি, বাচ্চাটা কাঁদছে, একটু হাওয়া খাওয়াই।”

সেলেফা খাতুন তখন কোনো সন্দেহ করেননি। ভাবলেন, হাসপাতালের ভেতরেই তো আছে, কোথায় আর যাবে। কিন্তু মিনিট পাঁচেক পর যখন মহিলাটি ফিরে এলেন না, তখন সেলেফার মনে সন্দেহ জাগতে শুরু করল। তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে শুরু করলেন। কিন্তু কোথাও সেই মহিলা বা তার শিশুর দেখা নেই।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

এদিকে ওষুধ কিনে ফিরে এসে স্ত্রীকে কাঁদতে দেখে সুজল সেখ প্রথমে কিছুই বুঝতে পারলেন না। যখন সেলেফা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে পুরো ঘটনা বললেন, তখন সুজলের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। নিজের চোখের সামনে থেকে, হাসপাতালের মতো জায়গা থেকে কেউ তাদের শিশুকে চুরি করে নিয়ে গেছে! এটা বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল তাদের জন্য।

সুজল সেখ সাথে সাথে হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ডদের জানালেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও খবর দেওয়া হলো। পুলিশে খবর দেওয়া হলো। কিন্তু ততক্ষণে মহিলাটি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেছেন। হাসপাতালের গেটে কোনো কড়াকড়ি চেকিং না থাকায় তিনি সহজেই শিশুকে নিয়ে বেরিয়ে যেতে পেরেছেন।

পুরো পরিবার তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছে। একজন মায়ের কাছে তার সন্তানের চেয়ে বড় কিছু নেই। সেই সন্তানকে যখন চোখের সামনে থেকে কেউ ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তখন সেই যন্ত্রণা কতটা ভয়াবহ, তা শুধু সেই মা-বাবাই জানেন।

হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনার পর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। একটি সরকারি হাসপাতালে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী আসেন, সেখানে এত সহজে কীভাবে কেউ একটি শিশু চুরি করে নিয়ে যেতে পারে? হাসপাতালের গেটে কি কোনো চেকিং নেই? সিসিটিভি কেমেরা কি কাজ করছে না?

স্থানীয় মানুষজন এবং সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। অনেকে বলছেন, হাসপাতালে শিশু এবং মহিলাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা উচিত। বিশেষ করে আউটডোর বিভাগে, যেখানে যেকেউ আসতে পারে, সেখানে আরও কড়া নজরদারি দরকার।

পুলিশের তৎপরতা

ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায়। তারা হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে শুরু করেছে। মহিলাটির ছবি পাওয়া গেলে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পুলিশ বলছে, তারা যত দ্রুত সম্ভব শিশুটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় থানার ইনচার্জ বলেছেন, “আমরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি। একটি শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে আছে। আমরা সব ধরনের সম্ভাব্য ক্ষেত্র খতিয়ে দেখছি। আশা করছি শিশুটিকে শীঘ্রই উদ্ধার করতে পারব।”

পুলিশ সন্দেহ করছে, এটি কোনো সুপরিকল্পিত চক্রের কাজ হতে পারে। কারণ এই ধরনের ঘটনা অতীতেও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ঘটেছে। সাধারণত শিশু চোররা খুব সুকৌশলে এই কাজ করে। তারা হাসপাতালে গিয়ে নতুন মায়েদের সাথে বন্ধুত্ব করে, বিশ্বাস অর্জন করে, তারপর সুযোগ বুঝে শিশুকে নিয়ে পালায়।

কেন হয় শিশু চুরি?

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, কেউ কেন শিশু চুরি করবে? দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে শিশু পাচারের একটি গোপন চক্র রয়েছে। এই চক্রের লোকেরা বিভিন্ন জায়গা থেকে শিশু চুরি করে, তারপর সেগুলো বিক্রি করে দেয়।

কিছু ক্ষেত্রে, যে দম্পতিদের সন্তান হয় না, তারা অবৈধভাবে শিশু কিনে নেয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে, এই শিশুদের ভিক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়। আরও ভয়ংকর কিছু ক্ষেত্রে, শিশুদের অঙ্গ পাচারের জন্যও চুরি করা হয়।

যাই হোক, এসব ঘটনা আমাদের সমাজের একটি কলঙ্ক। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নিয়ে এভাবে খেলা করার অধিকার কারোর নেই।

সমাজের দায়িত্ব

বর্ধমান মেডিক্যালে 18 দিনের শিশু চুরি মা-বাবার সামনেই অপহরণ জানুন সম্পূর্ণ ঘটনা

এই ধরনের ঘটনা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয়, আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। আমরা যদি চারপাশে একটু সচেতন থাকি, তাহলে এই ধরনের ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

প্রথমত, নতুন মা-বাবাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো জনবহুল জায়গায়। কোনো অচেনা মানুষের হাতে নিজের শিশুকে দেওয়া একদমই উচিত নয়, তা সে যতই ভালো মানুষ মনে হোক না কেন।

দ্বিতীয়ত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা উচিত। গেটে কড়া চেকিং থাকা উচিত। বিশেষ করে শিশু বিভাগে অতিরিক্ত নিরাপত্তা থাকা দরকার।

তৃতীয়ত, আমরা সাধারণ মানুষরা যদি কোথাও এ ধরনের কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখি, তাহলে সাথে সাথে পুলিশকে জানানো উচিত। অনেক সময় আমরা ভাবি, “এটা আমার ব্যাপার নয়।” কিন্তু মনে রাখতে হবে, আজ যে শিশুটি চুরি হয়েছে, কাল সেটা আমাদের পরিবারেরও কারো সাথে হতে পারে।

❓ FAQ

প্রশ্ন ১: বর্ধমান মেডিক্যালে শিশু চুরির ঘটনা কী?

উত্তর: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আউটডোর থেকে মাত্র ১৮ দিনের একটি শিশুকে অচেনা এক মহিলা চুরি করে নিয়ে যায়। শিশুটির মা সেলেফা খাতুন তার ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে এসেছিলেন। একজন মহিলা আদর করার নাম করে শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।

প্রশ্ন ২: শিশুটির বাবা-মায়ের নাম কী?

উত্তর: শিশুটির মায়ের নাম সেলেফা খাতুন এবং বাবার নাম সুজল সেখ। শিশুটির বয়স মাত্র ১৮ দিন।

প্রশ্ন ৩: পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

উত্তর: পুলিশ ঘটনার সাথে সাথে তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। অপহরণকারী মহিলাকে শনাক্ত করার জন্য পুলিশ সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রশ্ন ৪: হাসপাতালে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল?

উত্তর: হাসপাতালের আউটডোর শিশু বিভাগে অপেক্ষা করার সময় একজন অচেনা মহিলা সেলেফা খাতুনের সাথে গল্প করে বিশ্বাস অর্জন করে। তারপর শিশুটিকে আদর করার নাম করে কোলে নিয়ে হাওয়া খাওয়ানোর কথা বলে বাইরে নিয়ে যায় এবং পালিয়ে যায়।

প্রশ্ন ৫: হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর: এই ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের গেটে পর্যাপ্ত চেকিং না থাকায় অপহরণকারী সহজেই শিশু নিয়ে বেরিয়ে যেতে পেরেছে।

প্রশ্ন ৬: শিশু চুরি কেন হয়?

উত্তর: শিশু পাচারের গোপন চক্র বিভিন্ন কারণে শিশু চুরি করে – নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি করা, ভিক্ষার কাজে ব্যবহার করা, বা অঙ্গ পাচারের জন্য। এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

প্রশ্ন ৭: নতুন মা-বাবারা কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

উত্তর: হাসপাতালে বা জনবহুল জায়গায় কখনোই অচেনা কারো হাতে নিজের শিশুকে দেবেন না। সবসময় সতর্ক থাকুন এবং শিশুকে নিজের চোখের সামনে রাখুন। কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে সাথে সাথে সিকিউরিটি বা পুলিশকে জানান।

উপসংহার

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। একটি মাত্র ১৮ দিনের শিশু, যার এখনও পৃথিবীটা ঠিকমতো দেখা হয়নি, তাকে তার মা-বাবার থেকে এভাবে ছিনিয়ে নেওয়া কতটা নিষ্ঠুর, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

আমরা আশা করি, পুলিশ দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করবে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করবে। সেই সাথে আমরা আশা করি, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই আরও সচেতন হব। আমাদের শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

সেলেফা খাতুন এবং সুজল সেখের পরিবারের জন্য আমাদের সমবেদনা। আল্লাহ যেন তাদের শিশুকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দেন এবং এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। আমরা প্রার্থনা করি, খুব শীঘ্রই শিশুটি তার মা-বাবার কোলে ফিরে আসুক। এবং এই ধরনের ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে, সেজন্য আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি সাম্প্রতিক ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে সতর্ক থাকুন এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে স্থানীয় পুলিশকে জানান।

এটাও দেখুন

👉 বাংলা থেকে বর্ষার বিদায়: আগামী সপ্তাহে শুষ্ক আবহাওয়ার সম্ভাবনা হাওয়া অফিসের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *