পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভবনে হঠাৎই ছড়িয়েছে ভূতের আতঙ্ক! সম্প্রতি রাতের নিরাপত্তারক্ষীরা নাকি এক অশরীরী উপস্থিতি টের পাচ্ছেন। ফলে পুরো বিধানসভা ভবনে এখন রহস্যময় পরিবেশ। ৩১ অক্টোবর আনন্দবাজার ডট কমে প্রথম এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।

রাতের নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন, রাতে বিধানসভায় ডিউটি করতে গেলে গা ছমছম করে। অনেকেই বলছেন, যেন কেউ পাশে দিয়ে হাঁটে, অথচ দেখা যায় না। এক নিরাপত্তারক্ষী বাপ্পা মণ্ডল জানিয়েছেন, “রাতের দিকে অদ্ভুত অনুভূতি হয়। যে লাইট কখনও জ্বলে না, হঠাৎ দেখি সেটা জ্বলছে, অথচ আশেপাশে কেউ নেই!”
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভবনের ভিতরে সাধারণত রাতে কেউ থাকেন না। বাইরে প্রহরায় থাকেন পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা। মাঝে মাঝে কোনও বিশেষ প্রয়োজনে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়, আর সেই সময়ই নাকি অশরীরী উপস্থিতির অনুভব হচ্ছে। বিশেষ করে দোতলায় বিজয় বন্দ্যোপাধ্যায় কক্ষের সামনে নাকি এই রহস্যময় ঘটনার প্রমাণ মেলে বেশি।
আরও পড়ুন :
খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তিনি নিজে ভূতের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না, তবুও নিরাপত্তারক্ষীদের আশঙ্কা খারিজ করেননি। তিনি বলেন, “এত বড় ভবনে রাতে একা পাহারা দিতে গিয়ে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। তবে তাদের সুরক্ষার কথা ভেবে রাতের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “আমি নিজে একদিন রাতে বিধানসভা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেদিন সব লাইট বন্ধ দেখে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানা যায় ইলেকট্রিসিটির একটা সমস্যা হয়েছিল। সেই থেকেই আমরা নির্দেশ দিয়েছি যেন রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।”
এদিকে এই খবর শুনে ‘ডিটেক্টিভ অফ সুপারন্যাচারাল’ নামের একটি সংস্থা নাকি আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিধানসভায় ভূতের উপস্থিতি নিয়ে তদন্ত করার জন্য। সংস্থার সদস্য দেবরাজ সান্যাল স্পিকারকে ইমেল করে অনুমতি চেয়েছেন বিধানসভা ভবনের অন্ধকারে তদন্ত চালানোর জন্য। যদিও এখনও পর্যন্ত তারা কোনও উত্তর পাননি।
আরও পড়ুন :
AI ने डेवलपर्स की दुनिया बदल दी! 90% कोडर बना रहे हैं काम आसान, लेकिन भरोसा अब भी कम – जानिए क्यों
চাঁদনি চক থেকে কলকাতা পর্যন্ত আতঙ্ক! বিস্ফোরণের পর শহরে জারি ‘রেড অ্যালার্ট’— কী বলল পুলিশ?
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন রাজনৈতিক মহলেও কৌতূহল। কেউ বলছেন এটি কেবলই কাকতালীয় ঘটনা, আবার কেউ মনে করছেন, পুরনো ঐতিহাসিক ভবনে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে যাই হোক না কেন, রাতের বিধানসভা এখন রহস্যে ঘেরা!
একদিকে অতিপ্রাকৃত ঘটনার আশঙ্কা, অন্যদিকে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। শেষ পর্যন্ত সত্যিই কি বিধানসভায় ভূতের অস্তিত্ব রয়েছে, না কি এটি নিছকই মানবিক বিভ্রম—সেটাই এখন জানার অপেক্ষা।
