খসড়া ভোটার তালিকায় আর ভূতুড়ে ভোটার নয়

খসড়া ভোটার তালিকায় আর ভূতুড়ে ভোটার নয়! বিএলও-দের কড়া নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন

Spread the love

খসড়া ভোটার তালিকায় কোনও ভাবেই ভূতুড়ে ভোটার থাকা চলবে না! কড়া নির্দেশ বিএলও-দের

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলছে জোরকদমে। নির্বাচন কমিশন এবার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে— খসড়া ভোটার তালিকায় কোনও ভাবেই ভূতুড়ে, মৃত বা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার রাখা চলবে না। এই দায়িত্ব পড়েছে বুথ স্তরের আধিকারিক বা বিএলও (BLO)-দের কাঁধে।

খসড়া ভোটার তালিকায় আর ভূতুড়ে ভোটার নয়! বিএলও-দের কড়া নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন এবং সেই ফর্ম ফেরত নিচ্ছেন। তাঁদের কাজের ওপরই নির্ভর করছে ভোটার তালিকা কতটা নির্ভুল হবে। কমিশনের বক্তব্য, কোনও ভুল বা জাল তথ্য ধরা পড়লে তার দায় সংশ্লিষ্ট বিএলও-দেরই নিতে হবে। এমনকি দায়িত্বে অবহেলা করলে শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে তাঁদের।

আরও পড়ুন :

SIR-এর প্রক্রিয়ায় ঝড়! সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল – বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা

SIR ফর্ম অনলাইনে জমা সম্ভব! জানুন কীভাবে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের ফর্ম পূরণ করবেন অনলাইনে

 

কমিশনের কড়া বার্তা বিএলও-দের জন্য

বুধবার নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ERO) উদ্দেশে জানায়— ভোটার তালিকায় যেন একটিও ভূতুড়ে বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম না থাকে। বিএলও-দের বলা হয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম সংগ্রহের সময় ভালোভাবে যাচাই করতে হবে ভোটার জীবিত কি না, সেই ঠিকানায় বাস করেন কি না।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ফর্ম বিলির হার এখনও ৭৫ শতাংশের নিচে। কমিশন জানতে চেয়েছে কেন এখনও অনেক এলাকায় ফর্ম বিলি সম্পূর্ণ হয়নি। বুধবার পর্যন্ত মোট ৬ কোটি ৮৭ লক্ষ এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা হয়েছে, তবে অনেক জায়গায় এখনও কাজ বাকি।

বৈঠকে মনোজ আগরওয়াল ও আধার দফতর

বুধবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সব ইআরও-দের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন। উপস্থিত ছিলেন আধার দফতরের আধিকারিক শুভদীপ চৌধুরীও। তিনি জানান, ৩৩-৩৪ লক্ষ মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর কমিশনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩ লক্ষ মানুষের এখনও আধার কার্ড নেই।

এই তথ্য ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করবে, কোনও মৃত ব্যক্তির নামে যেন ভোটার তালিকায় নাম না ওঠে। যদি দেখা যায় কোনও মৃত ব্যক্তির নামে ফর্ম জমা পড়েছে, তাহলে যিনি সেই ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁকে ডেকে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে সেই এলাকার বিএলও-কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়া?

নির্বাচন কমিশন চায়, আগামী ভোটের আগে ভোটার তালিকা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ হোক। আগের তালিকাগুলিতে অনেক সময় দেখা গেছে মৃত ব্যক্তি বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম রয়ে গেছে। সেই ভুল এবার আর রাখতে রাজি নয় কমিশন।

তাই ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে। বিএলও-রা ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকা দেখে যাচাই করছেন কোন ভোটার এখনও সেখানে আছেন, আর কে স্থানান্তরিত বা প্রয়াত।

আরও পড়ুন :

নভেম্বরেই ব্যাটিং শুরু শীতের! মরশুমের শীতলতম দিনের সাক্ষী কলকাতা, তাপমাত্রা নামল ১৭ ডিগ্রিতে

দিল্লি বিস্ফোরণ সন্ত্রাসবাদী হামলাই! প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত, তদন্তে মিলল বিস্ফোরক তথ্য

 

ভোটার তালিকায় জালিয়াতি রুখতে আধার তথ্যের ব্যবহার

আধার দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মৃত ভোটারদের আধার নম্বর মেলানোর মাধ্যমে সহজেই ধরা যাবে কে আর জীবিত নেই। কমিশন বলছে, এই তথ্য ব্যবহারে ভোটার তালিকা অনেক বেশি নির্ভুল হবে এবং ভবিষ্যতে কোনও জাল ভোটার বা ভূতুড়ে নাম থাকবে না।

শেষ কথা

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট— ভূতুড়ে ভোটারদের যুগ শেষ হতে চলেছে। বুথ স্তরের আধিকারিকদের উপর এখন নজরদারি আরও কঠোর হচ্ছে। কারণ, তাঁদের কাজই ঠিক করবে আগামী ভোট কতটা নিরপেক্ষ হবে।

কমিশনের লক্ষ্য, ডিসেম্বরের মধ্যেই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ সম্পূর্ণ করা। এরপর প্রকাশ পাবে নতুন খসড়া ভোটার তালিকা, যেখানে কোনও মৃত বা ভুয়ো ভোটারের নাম থাকবে না— এই আশাই করছে রাজ্যবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *