৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে নয় দুর্নীতি, মাত্র ৩৬০ তে অনিয়ম!

৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে নয় দুর্নীতি, মাত্র ৩৬০ তে অনিয়ম! হাই কোর্টে বড় দাবি রাজ্যের

Spread the love

৩২ হাজারের ৩৬০টি নিয়োগে অনিয়ম, তাকেই বলা হচ্ছে বড় দুর্নীতি! হাই কোর্টে রাজ্যের দাবি

কলকাতা হাই কোর্টে ফের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় উত্তপ্ত বিতর্ক। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার আদালতে জানানো হয়, ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে কোনও দুর্নীতি হয়নি, বরং মাত্র ৩৬০টি নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে “দুর্নীতিগ্রস্ত” বলা সম্পূর্ণ অন্যায় বলে দাবি করেছে রাজ্য।

৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে নয় দুর্নীতি, মাত্র ৩৬০ তে অনিয়ম! হাই কোর্টে বড় দাবি রাজ্যের

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, “সিবিআই তদন্তেও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেবলমাত্র কয়েকটি প্রিন্টিং বা ডেটা প্রসেসিং ত্রুটি ধরা পড়েছে। এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি কোনও নিয়োগ সংস্থা নয়, তারা শুধু ডেটা প্রিন্ট করেছে।”

আরও পড়ুন :

বিধানসভায় ভূতের আতঙ্ক! রাতের অন্ধকারে ‘অশরীরী’ ঘোরে, নিরাপত্তা বাড়ালেন স্পিকার বিমান!

নৈহাটিতে রমরমিয়ে নারীপাচার চক্র! বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর হঠাৎ হাজিরা ঘিরে তোলপাড়, আসল ঘটনা জানলে চমকে যাবেন!

 

বিচারপতির পুরনো রায় ও মামলার ইতিহাস

২০২৩ সালের ১২ মে, তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে ৪২৫০০ জনের মধ্যে ৩২ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তবে সেই রায়ে বলা হয়, চাকরি বাতিল হলেও তারা স্কুলে যাবেন। একই সঙ্গে রাজ্যকে তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়।

এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায় পর্ষদ, যেখানে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। কিন্তু একই সঙ্গে তারা নির্দেশ দেন নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পরবর্তীতে এই দুই রায়ই রাজ্য ও পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে

রাজ্যের যুক্তি

রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিজেরাই কিছু ত্রুটি শনাক্ত করে সংশোধন করেছে। তাই সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দুর্নীতি বলা অনুচিত। রাজ্যের মতে, ৩২ হাজার নিয়োগের মধ্যে মাত্র ৩৬০টি ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত ভুল ছিল, যা পর্ষদ সংশোধন করেছে।

এছাড়াও, মেধাতালিকা প্রকাশেও কোনও অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করা হয়। রাজ্যের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ আইন মেনেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি করা হয়েছিল।

আদালতের প্রশ্ন ও রাজ্যের জবাব

আদালত জানতে চায়, তাহলে কেন ৯৬ জন প্রশিক্ষিত প্রার্থীর চাকরি বাতিল করা হল? রাজ্য জবাব দেয়, “ওই ৯৬ জনকে পর্ষদের তরফে কোনও সুপারিশ করা হয়নি, তাই তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।”

রাজ্যের দাবি, এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে “বিরাট দুর্নীতি” বলে প্রচার করা হচ্ছে, অথচ বাস্তবে পর্ষদ নিজেরাই অনিয়ম শনাক্ত করে ঠিক করেছে।

আগামী শুনানি

এই মামলার শুনানি মঙ্গলবার শেষ হয়নি। আগামী সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্যের দাবি অনুযায়ী, ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের গোটা প্রক্রিয়াকে বাতিল করা অন্যায় ও অযৌক্তিক। রাজ্যের বক্তব্যে নতুন করে আশা দেখছেন সেই সমস্ত চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *