দিল্লির লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। সেই আতঙ্কের আঁচ এসে পৌঁছেছে কলকাতাতেও। সোমবার রাত থেকেই গোটা শহরে জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা (Special Alert in Kolkata)। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের সব থানাকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং রাত থেকেই শুরু হয়েছে ‘নাকা চেকিং’ অভিযান।

কলকাতা পুলিশের একাধিক টিম শহরের ব্যস্ত এলাকা— এসপ্ল্যানেড, পার্ক স্ট্রিট, সল্টলেক, নিউ টাউন, হাওড়া ও সিয়ালদহ এলাকায় নজরদারি শুরু করেছে। পাশাপাশি, শহরের হোটেল ও লজগুলিতেও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। সেখানকার অতিথিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন কাউকে নজরে রাখছে পুলিশ।
আরও পড়ুন :
लाल किला धमाका LIVE: आतंकी साजिश का खुलासा, 11 की मौत – जानें कैसे हुआ ब्लास्ट!
দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষও পৃথক সতর্কবার্তা জারি করেছে। মেট্রো স্টেশনগুলিতে ব্যাগ চেকিং এবং সিসিটিভি মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে এসপ্ল্যানেড, দমদম, গড়িয়াহাট, এবং রাজাবাজার মেট্রো স্টেশনে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো গেটের সামনেই বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের গাড়িগুলিতে। দিল্লি দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি গাড়িতে বিস্ফোরণের ফলে এই আগুন লাগে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এখনও পর্যন্ত ওই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা আট, আহত হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এটি সন্ত্রাসবাদী হামলা হতে পারে। কারণ, কয়েক দিন আগেই রাজধানী দিল্লি থেকে ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল, যা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ।
আরও পড়ুন :
দিল্লির ঘটনার পরেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “দিল্লির এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।”
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন, “বিস্ফোরণের তদন্তে যা উঠে আসবে, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।”
দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি এনআইএ ও আইবি ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে। দেশের অন্যান্য মহানগরের মতোই কলকাতাতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাই না। রাত থেকেই শহরে চলছে Full Security Checking। মেট্রো, বাসস্ট্যান্ড, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন— সব জায়গায়ই কড়া নজর রাখা হচ্ছে।”
রাজধানীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর এখন কলকাতা পুলিশ ও মেট্রো কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করছে, যাতে কোনওরকম বিপদ এড়ানো যায়।
