এসআইআর প্রক্রিয়ায় আপত্তি! সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল, মমতার স্পষ্ট নির্দেশ— মানুষকে সাহায্য করুন
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে এবার তৃণমূল কংগ্রেসও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সোমবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন ও দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায় সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেন। মঙ্গলবার বিচারপতি সূর্যকান্ত ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ – “গায়ের জোরে চলছে বিজেপির নির্দেশে এসআইআর”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়া বিজেপির কথামতো গায়ের জোরে চালানো হচ্ছে। তাঁর মতে, এত দ্রুত এসআইআর করা সম্ভব নয় এবং এই প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ হওয়া উচিত।
তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন,
“মানুষকে সাহায্য করবেন, নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন, যাতে কেউ আতঙ্কিত না হন।”
শিলিগুড়ি থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বলেন, রাজ্যে যেভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তা রুখতে প্রশাসনকে মানুষের পাশে থাকতে হবে।
আরও পড়ুন :
Faridabad विस्फोटक मामला: महिला डॉक्टर के घर से चौंकाने वाले खुलासे! 350 किलो बारूद, AK-47 बरामद
रूस के राष्ट्रपति पुतिन साल के अंत में भारत आ रहे हैं! जानें क्यों पूरी दुनिया की नजर इस दौरे पर है
এসআইআর আতঙ্ক: আত্মহত্যা ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ
গত কয়েক সপ্তাহে এসআইআর আতঙ্কে কিছু মৃত্যু ও আত্মহত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“কেউ যেন আত্মহত্যার পথ না বেছে নেন। আমরা সবাই এক দেশের নাগরিক। কেউ বাদ পড়বেন না।”
তিনি আরও জানান, যাঁদের নথিপত্র বন্যায় হারিয়ে গেছে, তাঁদের নতুন করে কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়া হবে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের মাধ্যমে।
মমতার আশ্বাস: “রেশন, স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার— এগুলিই প্রমাণ”
মুখ্যমন্ত্রী রাজবংশী, মতুয়া, কামতাপুরীসহ রাজ্যের প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে আশ্বস্ত করে বলেন,
“সবাই নিজের মতো করে এসআইআর করুন। আপনার যদি রেশন কার্ড, স্বাস্থ্যসাথী বা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থাকে— সেটাই আপনার নাগরিকত্বের প্রমাণ।”
তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় হেল্প ক্যাম্প ও বিএলও অফিস রয়েছে। মানুষ সেখানে যোগাযোগ করলে সাহায্য পাবেন।
প্রশাসনিক বার্তা: “মানুষের পাশে থাকুন”
উত্তরবঙ্গের বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা— সবাইকে বলেছি, মানুষের পাশে থাকুন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষভাবে সাহায্য করুন।”
তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, পঞ্চায়েত, পূর্ত, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকরা।
“নোটবন্দির মতোই ভোটবন্দি”: মমতার তোপ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“নোটবন্দির সময় যেমন সাধারণ মানুষ কষ্ট পেয়েছিল, এবার তেমনই ‘ভোটবন্দি’ শুরু হয়েছে। এবার আপনাকে প্রমাণ করতে হবে— আপনি নিজেকে চেনেন! এটা এক বড় অসম্মান।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন,
“দু’মাসে কীভাবে এত বড় প্রক্রিয়া শেষ হবে? কেন হঠাৎ ভোটের আগে এত তাড়াহুড়ো?”
মমতার মতে, দু’বছর সময় নিয়ে পরিকল্পনা করলে এসআইআর প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হতে পারত।
আরও পড়ুন :
‘সুপার এমার্জেন্সি’ অভিযোগে বিজেপিকে নিশানা
মমতার অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্য সরকারকে ব্যস্ত রাখছে।
“এই তিন মাসে যাতে সরকার কাজ করতে না পারে, তাই ঘুরিয়ে সুপার এমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, বিএলওদের মধ্যে বেশিরভাগই স্কুলশিক্ষক, তাঁদের উপর বাড়তি চাপ দেওয়া হচ্ছে। দিনে মাত্র দু’ঘণ্টা সময় পেলে তাঁরা কীভাবে সমস্ত কাজ করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপির বিরুদ্ধে সরব মমতা
মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি এখন “সিএএ অফিস” চালু করেছে। তাঁর দাবি,
“১৪ জন মানুষ মারা গিয়েছেন, কিন্তু বিজেপির কোনও দুঃখ নেই। তারা ধর্মের নামে কার্ড বিক্রি করছে।”
তিনি বলেন, কমিশনের যে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ হচ্ছে, তা অনেক দরিদ্র মানুষই বুঝতে পারছেন না। ফলে, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
আদালতে তৃণমূলের পদক্ষেপ
SIR-এর প্রক্রিয়ায় ঝড়! সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল – বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা
তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে। এবার একই পথে তৃণমূলও। মমতার বক্তব্য,
“আমরাও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ আসবেই।”
মমতার বার্তা: “চিন্তা করবেন না, হতাশ হবেন না”
শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“সবাই নাগরিক, কারও ভয় পাবার কিছু নেই। কেউ যেন হতাশ না হন, মনোবল রাখুন।”
তিনি মানুষকে পরামর্শ দেন নিজের হাতে ফর্ম পূরণ করতে এবং সরকারি সাহায্য নিতে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্যাম্পে সাহায্য নেওয়ার অনুরোধও জানান।
উপসংহার
এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে আইনি পথে লড়াই চালাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রশাসনকে নির্দেশ দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এখন চোখ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে, যা এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
