তেরঙায় মোড়া গাড়িতে চেপে ফিরছেন রিচা ঘোষ!

তেরঙায় মোড়া গাড়িতে চেপে ফিরছেন রিচা ঘোষ! বিশ্বজয়ী মেয়েকে বরণে সাজছে শিলিগুড়ি

Spread the love

তেরঙায় মোড়া গাড়িতে চেপে বাড়ি ফিরছেন রিচা! লাল গালিচায় সাজছে শিলিগুড়ি ঘরের মেয়ের বরণে

তেরঙায় মোড়া গাড়িতে চেপে ফিরছেন রিচা ঘোষ

শিলিগুড়ি শহর আজ উচ্ছ্বাসে ভাসছে। কারণ, শহরের গর্ব— বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষ ফিরছেন নিজের শহরে। গোটা দেশ যাঁর জন্য গর্বিত, সেই রিচা আজ ঘরে ফিরবেন তেরঙায় মোড়া হুডখোলা গাড়িতে চেপে। সকাল থেকেই শিলিগুড়ির রাস্তায় জমে উঠেছে জনসমুদ্র। হোর্ডিং, ব্যানার, পতাকায় ভরে উঠেছে শহরের প্রতিটি মোড়। সবাই একটাই নাম নিচ্ছে— “আমাদের রিচা, আমাদের গর্ব!”

রিচার বাড়ি ফেরা: শিলিগুড়ির উৎসবের দিন

শুক্রবার সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজ শহরজুড়ে। দিল্লি থেকে বিমানে বাগডোগরা নামার পর থেকেই রিচার জন্য অপেক্ষা করছে এক বিশেষ আয়োজন—
তেরঙায় মোড়া হুডখোলা গাড়ি।

এই গাড়িতেই রিচাকে শহরে আনা হবে। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকবে হাজারো মানুষ। স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে মহিলা ক্রিকেটার— সবাই গর্বিত চোখে দেখবেন তাঁদের শহরের মেয়েকে।

বাগডোগরা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটারের পথ এবার রূপ নেবে উৎসবমুখর মিছিলে। মেয়র গৌতম দেব নিজে উপস্থিত থাকবেন তাঁকে বরণ করতে। শহরজুড়ে গান, ব্যানার, ফেস্টুনে একটাই বার্তা—
“স্বাগতম বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষ!”

বিশ্বজয়ের পর প্রথমবার ঘরে ফেরা

বিশ্বকাপজয়ের পর এই প্রথম নিজের শহরে পা রাখছেন রিচা। তাই উত্তেজনা তুঙ্গে।
শিলিগুড়ির নাগরিকরা ইতিমধ্যেই ঘরের মেয়ে ফিরে আসায় আনন্দে ভাসছেন। শহরের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে রিচার বিশাল কাটআউট, ‘Welcome Champion Richa’ লেখা পোস্টার এবং ত্রিবর্ণ পতাকায় মোড়া দেয়াল।

বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভারত মহিলা দল জিতেছিল ট্রফি। আর সেই জয়ের মূল ভরসা ছিলেন এই তরুণী— রিচা ঘোষ, শিলিগুড়ির সুভাষপল্লির মেয়ে।

বাড়িতে বিশেষ আয়োজন

রিচা ঘোষের মা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন,

“মেয়ে ফিরছে, এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন। আমি নিজে ওর পছন্দের খাবার রান্না করব।”

বাড়িতে সাজানো হয়েছে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ। রিচার জন্য মায়ের হাতে তৈরি
ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন, চিলি পনির এবং সঙ্গে থাকবে তাঁর প্রিয় রসগোল্লা আর মিষ্টি দই।

এ যেন ঘরের মেয়ের ফিরে আসার উৎসব— যেখানে শুধু পরিবার নয়, গোটা শহর অংশ নিচ্ছে ভালোবাসা আর গর্বের সঙ্গে।

শহরের সংবর্ধনা: লাল গালিচা ও গার্ড অফ অনার

তেরঙায় মোড়া গাড়িতে চেপে ফিরছেন রিচা ঘোষ! বিশ্বজয়ী মেয়েকে বরণে সাজছে শিলিগুড়ি

শিলিগুড়ি পুরনিগমের পক্ষ থেকে বাঘাযতীন পার্কে আয়োজন করা হয়েছে একটি বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সুভাষপল্লি থেকে পার্কের দূরত্ব মাত্র ২০০ মিটার। এই রাস্তা জুড়ে পাতা হবে লাল গালিচা
স্থানীয় মহিলা ক্রিকেটাররা ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকবেন দুই ধারে— ব্যাট তুলে সম্মান জানাবেন তাঁদের প্রিয় রিচাকে।

এছাড়া, তাঁকে দেওয়া হবে গার্ড অফ অনার
বাঘাযতীন পার্কের মঞ্চে রিচার হাতে তুলতে দেওয়া হবে শহরের সম্মান, উপহার এবং ফুলের তোড়া। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মেয়র গৌতম দেব, পুর কমিশনার, স্থানীয় সাংসদ ও ক্রীড়া সংগঠনের সদস্যরা।

মঞ্চে পড়া হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছাবার্তা, যা পাঠানো হয়েছে রিচার উদ্দেশ্যে। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন—

“রিচা, তুমি শুধু শিলিগুড়ির নয়, গোটা বাংলার গর্ব। তোমার সাফল্য আমাদের অনুপ্রেরণা।”

শহরের রাস্তায় নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি

এই বিশাল সংবর্ধনার জন্য বৃহস্পতিবার দীনবন্ধু মঞ্চে বৈঠক করেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ, পুরকর্মী, বণিকসভা এবং স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

মেয়র জানিয়েছেন,

“আমাদের সময় খুবই কম, কিন্তু আমরা চাই রিচাকে এমনভাবে বরণ করা হোক, যাতে সারা দেশ শিলিগুড়ির নাম আবার মনে রাখে।”

সেই কারণেই শহরের ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাগডোগরা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত পথে থাকবে পুলিশ টহল, ব্যারিকেড এবং স্বেচ্ছাসেবক দল।

জনতার আবেগ ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ

তেরঙায় মোড়া গাড়িতে চেপে ফিরছেন রিচা ঘোষ

শহরের প্রায় সব স্কুলেই ঘোষণা করা হয়েছে,
রিচা ঘোষকে সংবর্ধনা দেখাতে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিত থাকতে হবে।
শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, ক্রীড়াপ্রেমী— সবাই একসঙ্গে হিলকার্ট রোডে জড়ো হবেন।

রিচার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ গানও—
“আমাদের রিচা, বাংলার গর্ব, তুই জয়ী হোস সারা দুনিয়া জুড়ে!”

এই গান ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির বিভিন্ন স্কুলে বাজতে শুরু করেছে।

শহরজুড়ে উন্মাদনা: ক্লাব, সংগঠন ও সাধারণ মানুষ

শুধু পুরনিগম নয়, শিলিগুড়ির প্রায় প্রতিটি ক্লাব, ক্রীড়া সংগঠন, মহল্লা কমিটি— সবাই রিচার বরণে প্রস্তুত।
অনেকেই বলেছেন,

“যে মেয়ে ছোটবেলায় বাঘাযতীন অ্যাথলেটিক ক্লাবে ব্যাট হাতে দাঁড়াত, আজ সে ভারতের বিশ্বজয়ী দলের নায়ক!”

বাঘাযতীন ক্লাবেও আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রিচা সেখানে যাবেন পার্কের সংবর্ধনার পর। ক্লাবের সদস্যরা তাঁকে উপহার দেবেন সেই ব্যাট, যেটি দিয়ে তিনি প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন।

রিচার শহরপ্রেম ও আবেগ

রিচা ঘোষ সবসময় বলেছেন—

“আমি যেখানে যাই, আমার শহর শিলিগুড়িই আমার শক্তি। এখানকার মানুষ, এখানকার বাতাস আমাকে সবসময় সাহস দেয়।”

এই ভালোবাসার প্রতিদানই যেন আজ শহর দিচ্ছে তাঁকে।
রিচা জানিয়েছেন, শিলিগুড়ির মাটিতেই তিনি ক্রিকেট শিখেছেন, আর এখানকার মানুষ তাঁকে সবসময় প্রেরণা দিয়েছেন।

বিশ্বজয়ের পর তিনি বলেছেন—

“আমি এই ট্রফি উৎসর্গ করছি আমার শহর শিলিগুড়িকে।”

এক দিনের সফর, পরের গন্তব্য কলকাতা

রিচা ঘোষ আপাতত এক দিনের জন্যই শিলিগুড়িতে থাকবেন। শুক্রবার সন্ধ্যায়ই তাঁর ফেরার কথা দিল্লিতে। তবে শনিবার কলকাতায় হবে তাঁর জন্য রাজ্য সরকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

কিন্তু শিলিগুড়ির মানুষের কাছে এই একদিনই যথেষ্ট। তাঁরা বলছেন—

“আমাদের মেয়ের জন্য একটা দিনই যথেষ্ট নয়, কিন্তু এই দিনটা আমরা সারাজীবন মনে রাখব।”

তেরঙায় মোড়া গাড়িতে চেপে ফিরছেন রিচা ঘোষ! বিশ্বজয়ী মেয়েকে বরণে সাজছে শিলিগুড়ি

ঘরের মেয়ের জন্য শহরের হৃদয় উজাড়

শহরের দোকানপাটে এখন নতুন অফার— “রিচা ঘোষ ডিসকাউন্ট!”
বাজারের দেওয়ালে রিচার ছবি, মিষ্টির দোকানে “চ্যাম্পিয়ন রিচা প্যাকেজ” নামের নতুন মিষ্টি, এমনকি স্কুলে বিশেষ প্রার্থনাও রাখা হয়েছে তাঁর জন্য।

পুরনিগমের এক সদস্য জানিয়েছেন,

“শিলিগুড়ির প্রতিটি নাগরিক মনে করেন, রিচা তাঁদের পরিবারের সদস্য।”

এই একাত্মতাই প্রমাণ করে, ক্রীড়া সাফল্য শুধু মাঠে নয়, হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

রিচার অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা

মাত্র ১১ বছর বয়সে ক্রিকেট শুরু করা রিচা ঘোষ আজ ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের মুখ।
শিলিগুড়ির ছোট মাঠ থেকে শুরু করে আজ তিনি বিশ্বকাপজয়ী দলের নায়িকা
তাঁর ফোকাস, অধ্যবসায় আর সাহসিকতা আজ হাজারো মেয়েকে অনুপ্রাণিত করছে।

তাঁর বাবা নিজে কোচিং করিয়ে মেয়েকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আর মা সবসময় পাশে থেকেছেন।

বিশ্বজয়ের পর যখন ভারতের পতাকা হাতে মাঠে দাঁড়িয়ে রিচা হাসছিলেন, তখন শুধু দেশের নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের বুক গর্বে ফুলে উঠেছিল।

সংবর্ধনার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

বাঘাযতীন পার্কে তৈরি হয়েছে বিশাল মঞ্চ, পেছনে লেখা—
“Welcome Home, Champion Richa Ghosh!”
চারপাশে তেরঙা পতাকা, ফুলের মালা, আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে পার্ক।

স্থানীয় শিল্পীরাও থাকবেন, তাঁরা গাইবেন বাংলা লোকগান ও দেশাত্মবোধক সংগীত।
পুলিশ জানিয়েছে, শহরে থাকবে প্রায় ২০০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকে।

শেষে এক প্রতীকী মুহূর্ত

সংবর্ধনার শেষে মেয়র গৌতম দেব রিচার হাতে তুলে দেবেন শহরের প্রতীকচিহ্ন।
এর সঙ্গে থাকবে একটি বিশেষ উপহার— একটি রুপার বল, যার ওপর খোদাই থাকবে
“From Siliguri, With Love.”

এই প্রতীকী মুহূর্তই হয়তো বলবে—
রিচা ঘোষ শুধু একজন ক্রিকেটার নন, তিনি শিলিগুড়ির আত্মা, গর্ব আর ভালোবাসার প্রতীক।

উপসংহার

আজ শিলিগুড়ি লাল গালিচায় নয়, হৃদয়ে বিছিয়েছে ভালোবাসা।
বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষ সেই ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু।
তেরঙায় মোড়া গাড়িতে চেপে যখন তিনি শহরে প্রবেশ করবেন,
তখন শুধু শহর নয়, গোটা উত্তরবঙ্গ গর্বে মাথা উঁচু করবে।

এ যেন এক সত্যিকারের “Homecoming of a Champion!”
রিচা ঘোষ প্রমাণ করেছেন—

“শিলিগুড়ি শুধু পাহাড়ের শহর নয়, এটি চ্যাম্পিয়ন তৈরি করার মাটি।”

আরও পড়ুন :

বড় খবর! MAKAUT CA4 Odd Semester 2025-26 পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত — দেখুন আপনার তারিখ ও সময়সূচি এখনই

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *