পশ্চিমবঙ্গে ভোটার আইডি কার্ড ২০২৫ – অনলাইনে কিভাবে আবেদন করবেন? সম্পূর্ণ গাইড বাংলায়
Voter ID Card Apply Online 2025:ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ভোটার আইডি কার্ড (Voter ID Card) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। এটি শুধু আপনার ভোট দেওয়ার অধিকার দেয় না, বরং এটি পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

যদি আপনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হন এবং এখনও আপনার ভোটার কার্ড তৈরি না হয়ে থাকে, তাহলে এখনই আপনি এটি অনলাইনে বা অফলাইনে আবেদন করে তৈরি করতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের (Chief Electoral Officer, West Bengal) দপ্তর ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষেরও বেশি নতুন ভোটারকে ভোটার তালিকায় যুক্ত করেছে। তাই আপনি যদি নতুন ভোটার আইডি কার্ড করতে চান, এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
এই লেখায় বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে –
✅ ভোটার কার্ড করার যোগ্যতা (Eligibility)
✅ অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া
✅ অফলাইন আবেদন প্রক্রিয়া
✅ আংশিক অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া
✅ প্রয়োজনীয় নথিপত্র
✅ ভোটার কার্ড ডাউনলোড পদ্ধতি
✅ আবেদন স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম
✅ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার আইডি কার্ড করার যোগ্যতা (Eligibility Criteria)
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য নিচের শর্তগুলি পূরণ করতে হবে –
-
নাগরিকত্ব: আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে।
-
বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ১লা জানুয়ারি অনুযায়ী ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
-
বাসস্থান: আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
-
অযোগ্য ব্যক্তি: আর্থিকভাবে দেউলিয়া বা বিশেষ শ্রেণির নাগরিক যারা আইন অনুযায়ী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত, তারা আবেদন করতে পারবেন না।
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড করার ধাপসমূহ (Online Apply Process)
পশ্চিমবঙ্গে অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন –
ধাপ ১:
পশ্চিমবঙ্গের Chief Electoral Officer (CEO West Bengal)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান।
সেখানে “Online Enrolment” অপশন থেকে “Apply to Enrol (Form 6)” নির্বাচন করুন।
ধাপ ২:
আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে Voter Portal-এ চলে যাবেন। সেখানে আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করুন অথবা পুরনো লগইন আইডি দিয়ে লগইন করুন।
এরপর “New Voter Registration” নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩:
এখন আপনার তথ্য যেমন — নাগরিকত্ব, জন্মতারিখ, ঠিকানা ইত্যাদি দিন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট (আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি) আপলোড করুন।
নোট: ২১ বছরের বেশি বয়স হলে আপনাকে একটি ঘোষণা পত্র (Declaration Form) জমা দিতে হবে।
ধাপ ৪:
সব তথ্য ভালোভাবে দেখে “Submit” বোতামে ক্লিক করুন।
আপনার ফর্মটি সংশ্লিষ্ট Electoral Registration Officer (ERO)-এর কাছে জমা হবে।
এরপর একজন Booth Level Officer (BLO) আপনার বাড়িতে গিয়ে যাচাই করবেন।
যাচাই সম্পন্ন হলে, আপনার ভোটার আইডি কার্ড ডাকযোগে আপনার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
অফলাইনে ভোটার আইডি কার্ড করার প্রক্রিয়া (Offline Apply Process)
যাদের ইন্টারনেট ব্যবহার সম্ভব নয়, তারা অফলাইনে ভোটার কার্ডের আবেদন করতে পারেন।
ধাপ ১:
নিজের এলাকার ইলেক্টোরাল অফিসে (Electoral Office) যান।
অথবা অনলাইনে গিয়ে CEO West Bengal-এর ওয়েবসাইট থেকে Form 6 ডাউনলোড করুন।
ধাপ ২:
ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করুন এবং প্রয়োজনীয় KYC ডকুমেন্ট (আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড ইত্যাদি) সংযুক্ত করুন।
ধাপ ৩:
একজন বুথ অফিসার (BLO) আপনার দেওয়া তথ্য যাচাই করতে আপনার বাড়িতে আসবেন।
সব কিছু যাচাই সম্পন্ন হলে ভোটার আইডি কার্ড ডাকের মাধ্যমে আপনার ঠিকানায় পাঠানো হবে।
আংশিক অনলাইন পদ্ধতি (Partially Online Method)
যদি আপনি পুরোপুরি অনলাইনে না করতে চান, তাহলে আংশিক অনলাইন পদ্ধতিও আছে —
-
NVSP (National Voters’ Service Portal)-এ যান।
-
সেখান থেকে Form 6 ডাউনলোড করুন।
-
ফর্মটি প্রিন্ট করে পূরণ করুন।
-
প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে জমা দিন।
ভোটার আইডি করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required)
১. ঠিকানার প্রমাণপত্র (Address Proof)
-
রেশন কার্ড
-
আধার কার্ড
-
বিদ্যুৎ/গ্যাস/জল বিল
-
ব্যাঙ্ক পাসবুক
-
পাসপোর্টের কপি
২. পরিচয়পত্র (Identity Proof)
-
ড্রাইভিং লাইসেন্স
-
স্টুডেন্ট আইডি কার্ড (যদি থাকে)
-
আধার/প্যান/রেশন কার্ডও গ্রহণযোগ্য
৩. জন্মতারিখের প্রমাণ (Age Proof)
-
জন্ম সনদ
-
মাধ্যমিক সার্টিফিকেট
-
কৃষক কার্ড
-
পৌরসভা বা রেজিস্ট্রার অফিস কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম সনদ
-
বাপ্তিস্ম সার্টিফিকেট
-
সরকার স্বীকৃত স্কুল কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম প্রমাণপত্র
এছাড়াও, একটি সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে।
অনলাইনে ভোটার কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম (Download Voter ID Online – e-EPIC)
এখন আপনি আপনার ভোটার আইডি অনলাইনে e-EPIC (Electronic Electoral Photo Identity Card) আকারে ডাউনলোড করতে পারেন।
ধাপসমূহ:
-
পশ্চিমবঙ্গের CEO Website বা NVSP/Voter Portal-এ যান।
-
“Download e-EPIC” নির্বাচন করুন।
-
লগইন করুন (EPIC নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে)।
-
OTP দিয়ে ভেরিফাই করুন।
-
তারপর e-EPIC PDF ফরম্যাটে ডাউনলোড করুন।
-
চাইলে DigiLocker-এ আপলোড বা প্রিন্ট করতে পারেন।
ভোটার আইডি কার্ডের আবেদন স্ট্যাটাস কিভাবে দেখবেন (Check Application Status)
-
পশ্চিমবঙ্গের CEO Portal-এ যান।
-
“Online Enrolment” থেকে “Track Online Application” নির্বাচন করুন।
-
আপনার রেফারেন্স নম্বর দিন এবং “Track Your Status” ক্লিক করুন।
ভোটার তালিকায় নাম আছে কিনা দেখুন (Search Name in Voter List)
-
NVSP ওয়েবসাইটে যান।
-
“Search in Electoral Roll” ক্লিক করুন।
-
দুটি উপায়ে খোঁজা যায় —
-
বিস্তারিত তথ্য দিয়ে (By Details) – নাম, জন্মতারিখ, জেলা, রাজ্য ইত্যাদি দিয়ে।
-
EPIC নম্বর দিয়ে (By EPIC No.) – EPIC নম্বর ও রাজ্যের নাম দিয়ে।
-
SMS এর মাধ্যমে জানার উপায়:
-
লিখুন:
WB EC <আপনার ভোটার আইডি নম্বর>পাঠান 51969 নম্বরে
অথবা -
পাঠান আপনার ভোটার আইডি নম্বর 9433633333 নম্বরে
Read More:
বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর দরজায় বিএলও! নিজের হাতে নিলেন এসআইআর ফর্ম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভোটার আইডি আবেদনকালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা (Guidelines)
-
যারা নিরক্ষর বা আধা-নিরক্ষর এবং জন্ম সনদ নেই, তারা নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ঘোষণা পত্র দিতে পারবেন।
-
২৬.০১.১৯৮৯-এর পর জন্মগ্রহণকারীদের জন্য জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক।
-
রেশন কার্ড দিলে অন্য একটি ঠিকানার প্রমাণ যেমন পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে।
-
ভোটার তালিকায় কেবলমাত্র মাতা-পিতা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোনের নাম উল্লেখ করা যাবে।
-
যদি আপনার আগের ভোটার আইডি থাকে, তাহলে ফর্মে তার তারিখ ও নম্বর উল্লেখ করুন এবং স্ব-স্বাক্ষরিত কপি জমা দিন।
-
ফর্ম জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন।
উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার আইডি কার্ড করার প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে। আপনি চাইলে বাড়িতে বসেই অনলাইনে আবেদন, ডাউনলোড, এবং স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন।
একটি ভোটার আইডি কার্ড শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নয়, বরং এটি আপনার পরিচয়, ঠিকানা ও নাগরিকত্বের প্রমাণ।
তাই আজই আবেদন করুন এবং নিজের ভোটের অধিকার সুরক্ষিত করুন।
