২০০২ সালের ভোটার লিস্ট ফাঁস! আপনার নাম আছে কি না দেখুন, না থাকলে কী বিপদ হতে পারে জেনে নিন

২০০২ সালের ভোটার লিস্ট ফাঁস! আপনার নাম আছে কি না দেখুন, না থাকলে কী বিপদ হতে পারে জেনে নিন

Spread the love

২০০২ সালের ভোটার লিস্ট ফাঁস! আপনার নাম আছে কি না দেখুন, না থাকলে কী বিপদ হতে পারে জেনে নিন

২০০২ সালের ভোটার লিস্ট ফাঁস! আপনার নাম আছে কি না দেখুন, না থাকলে কী বিপদ হতে পারে জেনে নিন

কলেজের ক্যান্টিন থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, অফিস বা বাজার—সব জায়গায় এখন আলোচনার একটাই বিষয়, SIR। অনেকে বলছেন, “SIR মানে আবার কী?” কেউ বলছেন, “আমার নাম কি ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে আছে?”
এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা বিস্তারিতভাবে জানাব—
👉 কীভাবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের নাম দেখবেন
👉 SIR মানে কী
👉 আর যদি এতে অংশ না নেন, তাহলে কী হতে পারে

কীভাবে দেখবেন ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে আপনার নাম রয়েছে কি না?

নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা
সেই সময়কার বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী লিস্ট সাজানো হয়েছে।

আপনাকে যা করতে হবে—

  1. নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান : https://wbsec.gov.in/ 

  2. আপনার ভোটার কেন্দ্র বা বিধানসভা এলাকা সিলেক্ট করুন।

  3. ২০০২ সালের লিস্টের পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করুন।

  4. নাম, বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানা অনুযায়ী খুঁজে দেখুন আপনার নাম রয়েছে কি না।

একবার নাম পেয়ে গেলে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে আপনি SIR ম্যাপিংয়ের আওতায় পড়বেন।

SIR কী?

SIR মানে হলো Special Intensive Revision, অর্থাৎ বিশেষ নিবিড় সংশোধন।
প্রতি বছরই নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধন করে—নতুন ভোটারদের নাম যোগ করে, মৃত বা ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দেয়।
কিন্তু এবার কমিশন মনে করছে, আগের সংশোধনগুলো সম্পূর্ণ নিখুঁত হয়নি।
তাই SIR প্রক্রিয়ায় এবার ২০০২ সালের পুরনো তালিকার সঙ্গে বর্তমান ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

যাদের নাম দুই তালিকাতেই পাওয়া যাবে, তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকবে না।
এদের বলা হচ্ছে “Mapped Voters”

কারা বাদ যেতে পারেন এই প্রক্রিয়ায়?

কমিশনের মতে, যেসব ব্যক্তির

  • পরিবারের কারও নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই,

  • এবং যাঁরা নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ,

তাঁদের নাম নতুন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
তাছাড়া মৃত ভোটার, ভুয়ো নাম বা একই ব্যক্তির দুটি আলাদা ভোটার আইডি থাকলে একটি নামও বাদ যাবে।

কমিশনের যুক্তি, ২০০২ সালের লিস্টে যদি বাবা-মায়ের নাম না থাকে, তাহলে নতুন কারচুপির মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রমাণ করা কঠিন।

SIR ম্যাপিং কীভাবে হচ্ছে?

২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার ছিল প্রায় ৪.৫৮ কোটি, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৬৫ কোটি
এই বিশাল ব্যবধানের কারণেই SIR ম্যাপিং এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

এই ম্যাপিংয়ের কাজ হচ্ছে—
👉 ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ও ২০২৫ সালের তালিকা মিলিয়ে দেখা,
👉 যাদের নাম দুই জায়গায়ই রয়েছে, তাদের নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করা।

এদের পরিবারের অন্য সদস্যরাও নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন।
এই ক্যাটাগরির ভোটারদের জন্য আলাদা করে কোনও নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রয়োজন হবে না।

SIR তালিকা পাওয়া যাবে কীভাবে?

২০০২ সালের ভোটার লিস্ট ফাঁস! আপনার নাম আছে কি না দেখুন, না থাকলে কী বিপদ হতে পারে জেনে নিন

SIR প্রক্রিয়ার মূল কাজ শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পর একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এই খসড়া তালিকায় যদি কোনও ভুল থাকে, কিংবা কারও নাম ভুলবশত বাদ যায়, তাহলে নাগরিকরা অভিযোগ জানাতে পারবেন।

কমিশন সেইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে।

বিহার রাজ্যে একইভাবে কাজ হয়েছে, এবার পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক সেই নিয়মেই প্রক্রিয়া চালু হবে।

SIR-এ অংশ না নিলে কী হবে?

এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
যদি কোনও নাগরিক SIR প্রক্রিয়ায় অংশ না নেন, তাহলে তাঁর নাম ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।

অর্থাৎ, আপনি যদি এখন অংশ না নেন, পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে হয়তো ভোট দিতে পারবেন না।
তাই সময় থাকতে নিজের নাম দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন।

কেন দরকার SIR?

নির্বাচন কমিশন মনে করছে, আগের তালিকাগুলোয় অনেক ভুল রয়ে গেছে।
ভুয়ো নাম, মৃত ভোটার, কিংবা একই ব্যক্তির একাধিক ভোটার কার্ড—এইসব সমস্যা দূর করতেই SIR দরকার।

কমিশন বলছে, এবার তারা একেবারে শুদ্ধ ও সঠিক ভোটার তালিকা তৈরি করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতের ভোট নির্ভুল হয়।

SIR-এর পর ভোটের দফা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন

SIR নিয়ে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই ঘোষণা করতে পারে দেশের ১০টি রাজ্যে SIR বিজ্ঞপ্তি
সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নামও থাকতে পারে।

বিজেপি আগেই জানিয়েছিল—বাংলায় SIR শেষ হলেই ভোট হবে।
তৃণমূল এই নিয়ে অভিযোগ তুলেছে যে, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

একই সঙ্গে ভোটের দফা নিয়েও মতভেদ।
বিজেপি চায় ৩ দফায় ভোট শেষ করতে,
অন্যদিকে তৃণমূল মনে করছে ৬ বা ৭ দফা ভোটই সবচেয়ে স্বচ্ছ ও যুক্তিযুক্ত।

বিজেপির বক্তব্য, বেশি দফায় ভোট মানে তৃণমূলের বেশি সময় পেয়ে ভুয়ো ভোটের সুযোগ পাওয়া।
তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি নিজেদের সুবিধার জন্য দফা কমাতে চাইছে।

নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে,
👉 রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা,
👉 বাহিনী সংখ্যা,
👉 প্রশাসনিক প্রস্তুতি—
সব দিক বিবেচনা করেই ভোটের দফা নির্ধারণ করা হবে।

তবে কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, চাইলে ৩ দফায় ভোট সম্পন্ন করা সম্ভব।

এরপর কী হতে পারে?

বিহারে আগামী মাসেই ভোট—৬ ও ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ এবং ১৪ নভেম্বর ফলাফল।
তাই বঙ্গের ভোটের নির্ঘণ্ট নিয়েও এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০১১ সালে বাংলায় হয়েছিল ৮ দফায় ভোট,
২০১৬ ও ২০২১ সালে হয়েছিল ৬ দফায়
এবার হয়তো ৩ দফায় ভোটের সম্ভাবনা নিয়েই রাজনৈতিক তরজা চরমে।

শেষ কথা

SIR নিয়ে অনেক জল্পনা, অনেক ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
কিন্তু সত্যিটা হলো—এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হল শুধুমাত্র ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করা।
তাই ভয় না পেয়ে, নিজের নাম একবার দেখে নিন।
২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম থাকলে নিশ্চিন্তে থাকুন।
আর যদি না থাকে, এখনই উদ্যোগ নিন নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ প্রস্তুত রাখার।

আপনার ভোট আপনার অধিকার — তাই সময় থাকতে সচেতন হোন।

FAQs (সাধারণ প্রশ্নোত্তর)

প্রশ্ন: ২০০২ সালের ভোটার তালিকা কোথায় পাব?
উত্তর: নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে বিধানসভা অনুযায়ী তালিকা দেখা যাবে।

প্রশ্ন: SIR-এ অংশ না নিলে কী হবে?
উত্তর: আপনার নাম নতুন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।

প্রশ্ন: ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকলে আমি কি নাগরিক নই?
উত্তর: না, আপনি নাগরিকত্ব প্রমাণের অন্য সরকারি নথিও দেখাতে পারবেন।

প্রশ্ন: SIR কবে শেষ হবে?
উত্তর: প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পর খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে।

Read more :

👉 অপরণা সেনের জীবনের গোপন রহস্য ফাঁস করলেন সুমন ঘোষ! জানলে অবাক হবেন

👉 Chhath Puja 2025 : इस मंत्र के बिना न दें अर्घ्य, वरना नाराज़ हो जाएंगी छठी मैया!

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *