পশ্চিমবঙ্গে টোটোর রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ 30 নভেম্বর অরেজিস্টার্ড টোটো চলবে না

পশ্চিমবঙ্গে টোটোর রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ 30 নভেম্বর অরেজিস্টার্ড টোটো চলবে না

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গে টোটোর রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ 30 নভেম্বর অরেজিস্টার্ড টোটো চলবে না

পশ্চিমবঙ্গে টোটোর রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ 30 নভেম্বর অরেজিস্টার্ড টোটো চলবে না

পশ্চিমবঙ্গে পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে এক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে চলাচল করা সমস্ত টোটোচালকদের জন্য এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে সমস্ত টোটোর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। যারা এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করবেন না, তাদের গাড়ি আর রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টোটোর চাকা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

🔹 কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল

বিগত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও শহরে টোটো পরিবহণের সংখ্যা বেড়েছে আশ্চর্যজনকভাবে। অনেকেই জীবিকার উৎস হিসেবে টোটো চালানো শুরু করেছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই টোটোগুলির বেশিরভাগই অবৈধ বা অরেজিস্টার্ড অবস্থায় চলছে। এর ফলে দুর্ঘটনা, ট্রাফিক সমস্যা ও যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছিল।

পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, “আমরা চাই সমস্ত টোটোচালক আইনের আওতায় আসুন, যাতে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং চালকদেরও সুবিধা হয়।” তাই এবার রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

🔹 কিভাবে হবে টোটো রেজিস্ট্রেশন

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি খুব জটিল নয়। প্রতিটি চালককে তার এলাকার RTO (Regional Transport Office) বা Motor Vehicles Department-এ যোগাযোগ করতে হবে।
সেখান থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে নিম্নলিখিত নথি জমা দিতে হবে—

  1. চালকের আধার কার্ড

  2. গাড়ির ক্রয় সংক্রান্ত কাগজ (invoice বা purchase bill)

  3. টোটোর ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর

  4. ছবি (পাসপোর্ট সাইজ)

  5. বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ই-রিকশা চালানোর অনুমতি

  6. প্রয়োজনীয় ফি

সব নথি জমা দিয়ে ফর্ম পূরণ করা হলে গাড়ির জন্য একটি ইউনিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদান করা হবে। সেই নম্বরটি টোটোর গায়ে স্পষ্টভাবে লিখে রাখতে হবে।

🔹 টোটো চালকদের সুবিধা

রেজিস্ট্রেশন করলে টোটোচালকরা সরকারি নথিভুক্ত হবেন। এতে ভবিষ্যতে তারা সরকার ঘোষিত সাবসিডি, ঋণ বা বিমা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

অনেক চালক দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছিলেন যে, অরেজিস্টার্ড টোটো চালানোর জন্য পুলিশ প্রায়ই জরিমানা করে। রেজিস্ট্রেশন হলে এই সমস্যাও মিটে যাবে।

🔹 অবৈধ টোটোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ

পরিবহণ দফতরের স্পষ্ট বক্তব্য, ৩০ নভেম্বরের পর থেকে রাস্তায় কোনও অরেজিস্টার্ড টোটো দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথমে সতর্ক করা হলেও, পরে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ থাকবে।

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে টোটোচালকদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং রাস্তার শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।

🔹 জেলার প্রশাসনের ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গে টোটোর রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ 30 নভেম্বর অরেজিস্টার্ড টোটো চলবে না

প্রতিটি জেলায় ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে, যারা টোটোচালকদের রেজিস্ট্রেশনে সাহায্য করবে। অনেক জায়গায় ব্লক অফিস বা পৌরসভাতেও হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। টোটোচালকরা সেখানে গিয়ে সহজেই তথ্য পেতে পারেন।

এছাড়াও প্রশাসন ক্যাম্পের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও সহজ করছে। বিভিন্ন পাড়া বা বাজার এলাকায় অস্থায়ী বুথ বসানো হচ্ছে, যাতে চালকদের দূরে যেতে না হয়।

🔹 সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

শহর ও মফস্বল—দুই জায়গাতেই সাধারণ মানুষ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এতে যাত্রী নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। যেহেতু রেজিস্টার্ড টোটোতে চালকের নাম ও নম্বর থাকবে, তাই কোনো দুর্ঘটনা বা সমস্যায় অভিযোগ করা সহজ হবে।

অন্যদিকে কিছু চালক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, “রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে খরচ বাড়বে।” তবে সরকার আশ্বস্ত করেছে, কম খরচে এবং দ্রুত প্রক্রিয়ায় এই কাজ সম্পন্ন করা যাবে।

🔹 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে প্রতিটি টোটোর জন্য একটি ই-চিপ বা QR কোড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির তথ্য, চালকের নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইত্যাদি জানা যাবে। ফলে অবৈধ টোটো সহজেই শনাক্ত করা যাবে।

এছাড়াও টোটোচালকদের জন্য ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হতে পারে, যাতে তারা ট্রাফিক নিয়ম ও যাত্রী সুরক্ষা সম্পর্কে আরও সচেতন হন।

FAQ:

প্রশ্ন ১: টোটো রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ কবে?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে টোটো রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২৫।

প্রশ্ন ২: রেজিস্ট্রেশন না করলে কী হবে?
উত্তর: রেজিস্ট্রেশন না করলে টোটো রাস্তায় চলতে পারবে না এবং গাড়ি বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

প্রশ্ন ৩: কোথায় রেজিস্ট্রেশন করা যাবে?
উত্তর: চালকরা তাদের এলাকার RTO অফিস বা পৌরসভায় রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

প্রশ্ন ৪: রেজিস্ট্রেশনের জন্য কী কী কাগজ লাগে?
উত্তর: আধার কার্ড, গাড়ির বিল, ছবি, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর, এবং লাইসেন্স প্রয়োজন।

প্রশ্ন ৫: রেজিস্টার্ড টোটো চালকদের কী সুবিধা হবে?
উত্তর: তারা সরকারি স্বীকৃতি, বিমা, সাবসিডি ও বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

🔹 উপসংহার

পশ্চিমবঙ্গের পরিবহণ ব্যবস্থায় টোটো এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্কুলের বাচ্চা থেকে অফিসযাত্রী—সবাই টোটো ব্যবহার করেন। তাই এই পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও নিয়মিত ও নিরাপদ করার লক্ষ্যেই সরকারের এই পদক্ষেপ।

৩০ নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা প্রত্যেক টোটোচালকের দায়িত্ব। নাহলে তাদের গাড়ি আর রাস্তায় চলতে পারবে না। সরকার যেমন কড়া হয়েছে, তেমনই চালকদের সুবিধার কথাও ভেবেছে।

সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদেরও উচিত, শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড টোটোতে যাতায়াত করা এবং অবৈধ টোটো সম্পর্কে প্রশাসনকে জানানো। তাহলেই রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হবে।

এটাও দেখুন

👉 বৃষ্টি বিদায় নিলেও সাবধান অক্টোবরেই আসতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *